দুই মাসে সেন্টমার্টিন গেছেন ১ লাখ ১৭ হাজার পর্যটক

ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মাস ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে শেষ হলো পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমতিপ্রাপ্ত সময়। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৯ মাস দ্বীপে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। বিকেল গড়াতেই জাহাজ ও ট্রলারে করে দ্বীপ ছেড়েছেন ৩ হাজার পর্যটক, হোটেল কর্মচারী ও ব্যবসায়ী। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই দুই মাসে দ্বীপে ভ্রমণ করেছেন ১ লাখ ১৭ হাজার পর্যটক।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল চারটার পর ৬টি পর্যটকবাহী জাহাজ ও কয়েকটি কাঠের ট্রলারে করে ৩ হাজার পর্যটক, হোটেল কর্মচারী ও ব্যবসায়ী দ্বীপ ছেড়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেন্টমার্টিন দ্বীপের দুই শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, আজ (শনিবার) সকাল ৭টায় কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা জেটিঘাট থেকে ছয়টি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। জাহাজগুলোতে কোনো পর্যটক ছিল না। দুপুরে দ্বীপে পৌঁছে সেখানে অবস্থানরত প্রায় ২ হাজার ৫০০ পর্যটক নিয়ে বিকেল নাগাদ জাহাজগুলো কক্সবাজারে ফিরে আসে। পাশাপাশি আরও ৫০০ হোটেলকর্মী কাঠের ট্রলারে করে টেকনাফে ফেরেন।

সরকার গত ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রেখেছিল। তবে নভেম্বর মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি না থাকায় ওই মাসে পর্যটক আসেননি। মূলত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাসে দ্বীপে ভ্রমণ করেছেন ১ লাখ ১৭ হাজার পর্যটক, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত বছরের ২২ অক্টোবর ১২ দফা নির্দেশনাসংবলিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯ মাস সেন্ট মার্টিনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সৈকতে আলোকসজ্জা, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক-ঝিনুক বা রাজকাঁকড়ার ক্ষতি এবং মোটরচালিত যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুব পাশা বলেন, পর্যটক নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বাড়ায় দ্বীপের পরিবেশের ক্ষত সারছে। সৈকতে বারবিকিউ ও আলোকসজ্জা বন্ধ থাকায় নতুন গাছপালা জন্মেছে, বালুচরে আবার শামুক-ঝিনুকের বিস্তার দেখা যাচ্ছে।

এদিকে পর্যটন মৌসুম শেষ হওয়ায় দ্বীপের দুই শতাধিক হোটেল–রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। সেন্টমার্টিন দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মৌলভি নুর আহমদ জানান, পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্তত ৩ হাজার মানুষ সাময়িকভাবে বেকার হয়ে পড়বেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পুরো মৌসুমে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সক্রিয় ছিল, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এএইচ/ডিজে

ksrm