চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় মাত্র ৪৫০ টাকার জুয়া খেলার অভিযোগে গভীর রাতে নয়জনকে গ্রেপ্তার এবং পরদিন সকালে তাদের জামিনে মুক্তির ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার রাতে উপজেলার চরপাথরঘাটা এলাকা থেকে জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ ওই নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনূর আলম জানান, অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে নগদ ৪৫০ টাকা এবং জুয়া খেলার দুটি তাসের বান্ডিল জব্দ করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে জুয়া খেলার অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়।
তবে পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার মিল নেই বলে দাবি উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন জেলে মাঠে বসে তাস খেলছিলেন এবং পাশে কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলেন। এ অবস্থায় পুলিশ এসে কোনো প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপস্থিত সবাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
চরপাথরঘাটা গ্রামের বাসিন্দা হাসান ও মুরাদ বলেন, তাদের কাছে একসঙ্গে নয়জনের জুয়া খেলার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। জব্দ করা টাকার পরিমাণও অত্যন্ত সামান্য। এলাকায় এমন কথাও শোনা গেছে যে, পথচারী ও দর্শকদের ভাগে ৫০ টাকা করে পড়েছে, যদিও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয় গ্রেপ্তারকৃত কায়ছার উদ্দিনকে ঘিরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাকে ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সম্পাদক পরিচয়ে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তথ্য ও প্রমাণের অভাবে শেষ পর্যন্ত সেই অভিযোগ টেকেনি বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
এ বিষয়ে থানার অপারেশন অফিসার নুরুল ইসলাম জানান, জুয়া খেলার সময় নয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য হলো, রাতে গ্রেপ্তার হলেও পরদিন সকালে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান সবাই।
ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের অভিযানের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। যদিও তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকার গুরুত্ব অস্বীকার করছেন না। তাদের মতে, জুয়া ও অপরাধ দমনে অভিযান জরুরি হলেও অভিযানের আগে নিরপেক্ষ তদন্ত, স্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রকৃত অপরাধী ও সাধারণ মানুষকে আলাদা করার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
কর্ণফুলীবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর টিম মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান চালালেও পুলিশের অভিযানে তেমন দৃশ্যমান ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ধারণা, লোক দেখানো অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্য ও বাস্তব প্রভাবের মধ্যে বড় ধরনের ফাঁক থেকে যাচ্ছে।




