প্রায় দুই বছর আগে দেশ ছেড়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব বিপ্লব বড়ুয়াসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্টে বিপ্লব বড়ুয়া ও তাঁর ভাই বিদ্যুৎ বড়ুয়া ভারতে পালিয়ে যান। পরে বিপ্লব বড়ুয়া ভারত থেকে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে এবং তাঁর ভাই বিদ্যুৎ বড়ুয়া সপরিবারে কানাডায় চলে যান বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া অন্যরা হলেন বিপ্লব বড়ুয়ার স্ত্রী সোমা বড়ুয়া, তাঁর ভাই চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক বিদ্যুৎ বড়ুয়া এবং বিদ্যুৎ বড়ুয়ার স্ত্রী অগ্নি বড়ুয়া দোলা।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন বলে জানান দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম। এর আগে চারজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।
দুদকের আবেদনে যা বলা হয়েছে
দুদকের আবেদনে বলা হয়, বিপ্লব বড়ুয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাপক জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের ব্যাংক হিসাবে অবৈধ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
অনুসন্ধানকালে দুদক জানতে পেরেছে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেকোনো সময় দেশত্যাগ করতে পারেন। তাঁরা দেশত্যাগ করলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আগেই স্থগিত হয়েছিল ব্যাংক হিসাব
এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, তাঁর ভাই বিদ্যুৎ বড়ুয়া, বিদ্যুৎ বড়ুয়ার স্ত্রী অগ্নি বড়ুয়া ও এইচ এম জামাল উদ্দিনসহ মোট চারজনের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়।
আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশনা পাঠায়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, উল্লিখিত ব্যক্তি ও তাঁদের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো হিসাব পরিচালিত হয়ে থাকলে সেই হিসাবের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৩ (১) (গ) ধারার আওতায় ৩০ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে হবে। তাঁদের নামে কোনো লকার থাকলে সেটির ব্যবহারও ৩০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিপ্লব বড়ুয়াসহ চারজনের ব্যাংক হিসাব স্থগিতের চিঠিতে তাঁর মা-বাবার নাম উল্লেখ করা হয়। বাকি তিনজনের ক্ষেত্রে মা-বাবা ও স্বামীর নামের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও জন্মতারিখও উল্লেখ করা হয়।
লেনদেন স্থগিতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও দলিল, যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী বিএফআইইউর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিপি




