দাভোসের বিশ্ব জীববৈচিত্র্য ফোরামে গবেষণা নিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের আকিজ

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নতুন ভাবনা

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণা উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শেখ মো. আকিজ। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এই শিক্ষার্থী ওয়ার্ল্ড বায়োডাইভারসিটি ফোরাম (ডব্লিউবিএফ) ২০২৬-এ গবেষণা উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান ও সম্মাননাও অর্জন করেছেন।

১৪ থেকে ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ার্ল্ড বায়োডাইভারসিটি ফোরাম ২০২৬। জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন।

বর্তমানে শেখ মো. আকিজ যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের মেরিক স্কুল অব বিজনেসে মার্কেটিং বিষয়ে এমবিএ করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশনে (সিইআই) গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফোরামে তিনি ‘প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য উদ্যোক্তা উন্নয়ন: সার্কুলার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রকৃতি, মানুষ ও পুঁজির সংযোগ’ শীর্ষক গবেষণা উপস্থাপন করবেন। গবেষণায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার একটি নতুন কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণাটির মূল ধারণা হলো, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কেবল পরিবেশগত দায়িত্বের বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নেরও একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এতে বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই অর্জনের অংশ হিসেবে শেখ মো. আকিজ ওয়ার্ল্ড বায়োডাইভারসিটি ফোরামের প্রতিযোগিতামূলক আর্লি ক্যারিয়ার রিসার্চ গ্রান্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের টার্নার রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার সমপরিমাণ গবেষণা ও ভ্রমণ সহায়তা পেয়েছেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর জন্য।

নিজের প্রতিক্রিয়ায় শেখ মো. আকিজ বলেন, আন্তর্জাতিক এ প্ল্যাটফর্মে গবেষণা উপস্থাপনের সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য বড় সম্মানের। গবেষণা, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের সমন্বয়ের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর সমাধান তৈরি করা সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন।

ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ডা. টিং ঝ্যাং বলেন, ওয়ার্ল্ড বায়োডাইভারসিটি ফোরাম ২০২৬-এ শেখ মো. আকিজের গবেষণা গৃহীত হওয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান অর্জন তাঁর একাডেমিক উৎকর্ষ, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি ও বাস্তব সমস্যার সমাধানে গবেষণার প্রয়োগের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তাঁর গবেষণা দেখায়, উদ্যোক্তা চিন্তা ও টেকসই উন্নয়ন কীভাবে একসঙ্গে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখে তারা গর্বিত।

সেন্টার ফর এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক হেনরি মর্টিমার বলেন, শেখ মো. আকিজের গবেষণা গৃহীত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান অর্জন তাঁর একাডেমিক উৎকর্ষ, অধ্যবসায় ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির স্বীকৃতি। এই অর্জন শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনমুখী পরিবেশের প্রতিফলন।

ধারাবাহিক অর্জনের স্বীকৃতি

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নকালে শেখ মো. আকিজ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বৃত্তি ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউপিএস-স্পন্সরড মু কাপা টাও স্কলারশিপ, সিগমা নু টাও ফাউন্ডার্স স্কলারশিপ, টার্নার রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ইনস্টিটিউটের অ্যালব্রেখ্ট ফেলোশিপ স্কলারশিপ এবং ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোর গ্লোবাল ফিল্ড স্টাডি স্কলারশিপ।

তিনি বেটা গামা সিগমা, ওমিক্রন ডেল্টা কাপা, সিগমা নু টাও, মু কাপা টাও এবং সিগমা আয়োটা এপসিলনসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানসূচক একাডেমিক ও পেশাগত সংগঠনের আজীবন সদস্য।

বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের বেটা গামা সিগমা চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনারশিপ ক্লাবের (ই-ক্লাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে এমবিএ প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৬ সেমিস্টারে তিনি ৪.০০ জিপিএ অর্জন করেছেন। এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে সাফল্যের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি।

ksrm