চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব দখল, ভাঙচুর, লুটপাট এবং ‘অবৈধ বহিষ্কার’ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব দখল করে নেয় এবং এরপর থেকেই গঠনতন্ত্রবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
দখল ও কমিটি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ
নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, ভাঙচুর ও লুটপাটের মাধ্যমে ক্লাব দখলের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার সক্রিয় তৎপরতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের লিখিত আদেশে নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে গঠন করা হয় একটি কথিত অন্তর্বর্তী কমিটি। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে প্রতিবাদ শুরু হলে জেলা প্রশাসক আহ্বায়কের পদ থেকে সরে গিয়ে দায়িত্ব চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অর্পণ করেন।
জেলা প্রশাসক সরে দাঁড়ালেও অন্তর্বর্তী কমিটির একটি অংশ তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, পরিস্থিতি এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যেন এটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান।
নতুন সরকারের তৎপরতা
পরবর্তীতে দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়। নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি জানায়, তারা নতুন সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তথ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্বাচিত কমিটির কাছ থেকে পাঁচজনের নাম গ্রহণ করেছেন এবং সমাধান প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানানো হয়।
‘বহিষ্কার’ নিয়ে নতুন বিতর্ক
এ অবস্থায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দখলদারদের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মঞ্জুর কাদের মঞ্জু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ারকে আজীবন বহিষ্কার ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা যায়। নির্বাচিত কমিটি এ সিদ্ধান্তকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, দখলদাররা ক্লাবের ২৮১ জন স্থায়ী সদস্যের মালিকানা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ক্লাবের তহবিল অপব্যবহার, হাউজি খেলার আড়ালে জুয়ার আসর বসানো এবং ৯৬ জন স্থায়ী সদস্যের সদস্যপদ বাতিল বা স্থগিত করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যত অচল বলে দাবি করা হয়েছে।
নামফলক নিয়ে ‘অপপ্রচার’ অভিযোগ
ক্লাবের বিভিন্ন নামফলক নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান, বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, জিল্লুর রহমান, চট্টগ্রামের প্রথম মেয়র মাহমুদুল ইসলাম এবং সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামফলক ক্লাবে ছিল। ভবন পুনর্নির্মাণের সময় এগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনঃস্থাপন করা হবে। জিয়াউর রহমানের নামফলক ফেলে দেওয়ার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলা হয়েছে।
সদস্যদের প্রতি আহ্বান
বিবৃতিতে নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি জানায়, তারা দৃঢ়তার সঙ্গে ক্লাব দখলমুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি মহল বিষয়টি অবগত হয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ অবস্থায় কথিত কমিটি সভা ডেকে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়াকে ‘পাগলের প্রলাপ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
সদস্যদের উদ্দেশ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অতীতে বিশ্বাসঘাতকতার উদাহরণ থাকলেও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ক্ষেত্রে এমন ভূমিকা কেউ নেবে না—এটাই প্রত্যাশা।




