থানায় ২০ ঘণ্টা রেখেও চোরাই গাড়ির মূল হোতাকে রেহাই দিতে তৎপর সীতাকুণ্ডের ওসি

জিপিএস খুলে ৮ লাখ টাকা দাবি, পরে আটক

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকা থেকে চোরাই গাড়িসহ তিনজনকে আটকের পরও ঘটনার মূল অভিযুক্তকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুমিন চেয়ারম্যানকে রোববার (১২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে হাতেনাতে আটক করা হলেও প্রায় ২০ ঘণ্টা থানায় রেখে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়।

থানা সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফৌজদারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই একটি টয়োটা এক্সিও গাড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মুমিন চেয়ারম্যান, আফতাব উদ্দিন গালিব (২৪) এবং কাজী মোহাম্মদ নবী ওরফে তানভীরকে আটক করা হয়।

উদ্ধার হওয়া টয়োটা এক্সিও গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-গ ৩৪-৬৬৬১) ব্যবসায়ী আহমদ কবির মানিকের মালিকানাধীন। কয়েক দিন আগে গাড়িটি চুরি হওয়ার পর তিনি নিজস্ব সোর্স এবং গাড়িতে সংযুক্ত জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সেটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, গাড়িটি মুমিন চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্তরা গাড়ির জিপিএস ডিভাইস খুলে ফেলেন এবং সেটি অন্যত্র সরিয়ে নেন। পরে গাড়ি ফেরত দেওয়ার শর্তে তাদের কাছে ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনায় পুলিশের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে গাড়িটি উদ্ধার এবং তিনজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা আরও কয়েকটি চোরাই মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার নিজেদের হেফাজতে থাকার তথ্য দেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।

তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আটকের পর থেকেই মূল অভিযুক্তকে মামলা থেকে আড়াল করার চেষ্টা শুরু হয়। সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং মামলার এজাহার থেকে তার নাম বাদ দিতে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়।

গাড়ির মালিক আহমদ কবির মানিক বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের গাড়ি চুরি করে জিম্মি করেছে, ৮ লাখ টাকা দাবি করেছে, জিপিএস খুলে গাড়ি গোপন করেছে, তাকে লকআপে না রেখে ওসির কক্ষের পাশেই বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে যেন বিশেষ অতিথির মতো রাখা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “সোমবার দুপুর থেকে মামলার এজাহারে মুমিন চেয়ারম্যানের নাম না রাখার জন্য আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমরা তার নাম উল্লেখ করতে চাইলে ওসি বারবার আপত্তি জানান। এমনকি আমাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণও করা হয়েছে।”

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় গাড়ি চুরি, সেগুলো গোপনে সংরক্ষণ এবং পরে মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। তাদের ভাষ্য, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র এবং মুমিন চেয়ারম্যান এর অন্যতম সমন্বয়কারী।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে মামলা থেকে মূল অভিযুক্তকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ksrm