চট্টগ্রাম নগরের তিন ওয়ার্ডে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বেশ ঘটা করে শুরু কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা পারেনি সিটি কর্পোরেশন। তিন ঘণ্টা দেরিতে দুপুর আড়াইটা থেকে এডিস মশা মারতে স্প্রে ও ফগিং করা হয়। একইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালানো যায়নি।
‘ঢাকঢোল পিটিয়ে’ ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারাই।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান করার কথা ছিল। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত দুপুরে গড়ায়।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড ও ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ড মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে দুপুর ২টা থেকে আড়াইটায় স্প্রে ও ফগিং করা হয়।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, তিনটি ওয়ার্ডে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে কর্মসূচিটি সকালে পরিচালনা করা গেলে আরও বেশি ফলপ্রসূ হতো।
বর্ষা মৌসুমে বাড়ির ছাদ, ছাদবাগান, টব ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় পানি জমতে না দেওয়ার জন্য বারবার সচেতন করা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন কম। বিভিন্ন ছাদবাগান ও টবে পানি জমে থাকার কথাও জানান প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, প্রতিবছরই নগরবাসীকে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়। নিয়ম না মানলে জরিমানাও করা হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।
সিটি কর্পোরেশনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হলেও ডেঙ্গু চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন করে ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন, বিআইটিআইডিতে ৮ জন, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৫ জন, সিএমএইচ চট্টগ্রামে ৩ জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮৮ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৬১ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
আইএমই/এএইচ




