আক্রান্ত
২৪৭৭৬
সুস্থ
২১৪৯৭
মৃত্যু
৩১৮

তামিম-মুশফিকদের পেছনে ফেলে সেরা ব্যাটসম্যান চট্টগ্রামের ছেলে ইরফান শুক্কুর

বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ

0

শ্রীলঙ্কা সফর বাতিল হয়ে যাওযায় খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দেশের ক্রিকেট অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিন করে বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ নামে একটি ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। রোববার (২৬ অক্টোবর) পর্দা নেমেছে যেটির। টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি সুযোগ পেয়েছিলেন জাতীয় দলের আশে-পাশে থাকা দলের (এ দল, এইচপি দল) বেশ কিছু খেলোয়াড়ও। তিন দলের ৪৫ জন খেলোয়াড়দের মধ্যে চট্টগ্রামের ছিলেন ছয়জন খেলোয়াড়। এরমধ্যে জাতীয় দলের ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হকের সাথে জাতীয় তারকা নাঈম হাসান, ইয়াসির আলী রাব্বিদের সাথে সুযোগ পান উদীয়মান দুই তারকা ক্রিকেটার ইরফান শুক্কুর ও শাহাদাত হোসেন দিপু।

বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপে প্রথম রাউন্ডে সবার ওপরে থাকলেও, শেষপর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি নাজমুল শান্ত একাদশ। ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রেসিডেন্টস কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশ। হারলেও ফাইনালে মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো খেলা চট্টগ্রামের ইরফান শুক্কুর। তাতেই জাতীয় দলের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যনের পুরষ্কার পান ইরফান শুক্কুর।

তবে আসরের সেরা ব্যাটসম্যানের তালিকায় সবার ওপরের দুইটি নাম নাজমুল একাদশেরই। অদ্ভুত মিল, দুজনই আবার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তারা হলেন নির্ভরতার প্রতীক মুশফিকুর রহীম ও সাম্প্রতিক সময়ে নিজের জাত চেনানো বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর। আসরে মুশফিক করেছেন ২১৯ রান, ইরফানের ব্যাট থেকে এসেছে ২১৪ রান।

সন্দেহ নেই, প্রেসিডেন্টস কাপ খেলতে নামার আগে পুরো টুর্নামেন্টের বাকি সব খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো প্রস্তুতি ছিলো উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীমের। যার প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠেও। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ রানে আউট হয়ে গেলেও, পরের তিন ম্যাচে খেলেছেন যথাক্রমে ১০৩, ৫২ ও ৫১ রানের ইনিংস। পরে ফাইনাল ম্যাচে আউট হয়েছেন ১২ রান করে। পুরো আসরে মুশফিকের চেয়ে তো দূরে থাক, তার সমান তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংসও খেলতে পারেননি আর কোনো ব্যাটসম্যান। পাঁচ ম্যাচে ৪৩.৮০ গড়ে ২১৯ রান করার মাধ্যমে যোগ্য হিসেবেই আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মুশফিক, পেয়েছেন ২ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার।

তবে আসরের সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কার কিন্তু পাননি মুশফিক। তার ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ ২১৯ রান এলেও, সেরা ব্যাটসম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৫ রান কম করা ইরফান শুক্কুর। পুরো আসরে ৭১.৩৩ গড়ে ২১৪ রান করেছেন ইরফান। যেখানে দুইটি ফিফটি ছাড়াও ছিল একটি ৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস।

মজার বিষয় হলো, নাজমুল একাদশের হয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম ও শেষ ম্যাচেই শুধু ফিফটি পেরুতে পারেননি মুশফিক; ঠিক এ দুই ম্যাচেই দলের হাল ধরে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন ইরফান। দুটি ম্যাচেই চাপে ছিলো দল। প্রথম ম্যাচে দলকে জেতাতে পারলেও, শেষ ম্যাচে আর পারেননি ইরফান। একার লড়াইয়ে ৭৫ রানের ইনিংস খেললেও বাকিদের ব্যর্থতায় ফাইনালে পরাজিত দলেই থাকতে হয়েছে ইরফান-মুশফিকদের।

বাংলাদেশ ‘এ’ দল এবং এইচপি দলের হয়ে খেলা ইরফান যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করেছেন। উইকেটের সামনে ব্যাট হাতে যেমন দুর্দান্ত সময় কাটছে ইরফানের তেমনি উইকেটের পেছনে উইকেটরক্ষক হিসেবেও বেশ ভাল করছেন এই বাঁহাতি। দীর্ঘ সময় পর ম্যাচ খেলতে নামা ক্রিকেটারদের বেশিরভাগই ব্যাট হাতে সফল হতে পারেননি। সেখানে ইরফান শুক্কুর তারকা না হয়েও সুযোগটাকে কাজে লাগান বেশ ভালভাবেই। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কারনে উপরে ব্যাট করার সুযোগ না পেয়েও (ব্যাট করেছেন সাত নম্বরে) ইরফান শুক্কুর করেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। যদিও যে পজিশনে তিনি ব্যাট করতে নামেন সে অবস্থায় ইনিংস বড় করার সুযোগ থাকে কম।

প্রেসিডেন্টস কাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক

১. মুশফিকুর রহীম : পাঁচ ম্যাচে ৪৩.৮০ গড়ে ২১৯ রান, সর্বোচ্চ ১০৩
২. ইরফান শুক্কুর : পাঁচ ম্যাচে ৭১.৩৩ গড়ে ২১৪ রান, সর্বোচ্চ ৭৫
৩. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ : পাঁচ ম্যাচে ৪০.৫০ গড়ে ১৬২ রান, সর্বোচ্চ ৬৭
৪. আফিফ হোসেন ধ্রুব : পাঁচ ম্যাচে ৩১.৪০ গড়ে ১৫৭ রান, সর্বোচ্চ ৯৮
৫. ইমরুল কায়েস : পাঁচ ম্যাচে ৩৬.৫০ গড়ে ১৪৬ রান, সর্বোচ্চ ৫৩*

ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স করে এগিয়ে যেতে চান চট্টগ্রামের এই তরুন। যেভাবে ছুটছেন সেটি ধরে রাখতে পারলে অচিরেই চট্টগ্রাম থেকে আরেকজন ক্রিকেটার জাতীয় দলের খাতায় নাম লেখাবে বলে ক্রিকেট বোদ্ধাদের বিশ্বাস।

এমএহক

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm