ঢাক পিটিয়ে হাটহাজারীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সফর, তাই ‘অনিয়ম’ও মেলেনি

ঢাকঢোল পিটিয়ে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পর সেখানে তেমন কোনো ‘অনিয়ম’ দেখতে পাননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্তলাল সেন। তবে রোগীরা জানিয়েছেন তাদের সমস্যার কথা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাটহাজারীর জোবরায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যপরীক্ষাও করিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে পরিদর্শনে যাবেন— এ খবরটি গতকাল শুক্রবারই চাউর হয়ে যায়। আর সেটি করেছে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস। শুক্রবার রাত ১০টা ২২ মিনিটে সাংবাদিকদের নিয়ে তৈরি করা সিভিল সার্জন অফিসের ফেসবুক গ্রুপ ‘স্বাস্থ্য সংবাদে’ এটি পোস্ট করেন স্বাস্থ্য তত্ব্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া।

ওই পোস্টে সিভিল সার্জন ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের মন্ত্রীর পরিদর্শন সঙ্গী হওয়ার আমন্ত্রণ জানান। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বার্ন ইউনিট উদ্বোধনের পর সকাল ৮টার পরপরই হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন মর্মে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সকাল ৮টারপরপরই হাটহাজারী উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন। সিভিল সার্জন কার্যা লয়ের চট্টগ্রামের এর পক্ষে যানবাহনের ব্যবস্থা আছে।

এদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার জোবরা কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শনিবার ১০টার দিকে প্রবেশ করেন। ক্লিনিকে আসা নারী সেবাগ্রহীতাদের কাছে মন্ত্রী জানতে চান, ক্লিনিক থেকে কী ধরনের সেবা তারা পান। সকলেই মন্ত্রীকে জানান প্রয়োজনীয় প্রায় সকল সেবা ও ওষুধ পান তারা। এরপর কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ প্রোভাইডারের কাছে জানতে চান কী কী সেবা তাঁরা দেন। এক পর্যায়ে সেখানে ডায়বেটিস পরীক্ষা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পরে সেখানে ডায়বেটিস ও রক্তচাপ পরীক্ষা করা তিনি।

সেখান থেকে বের হওয়ার পথে বাজারে স্থানীয়দের সঙ্গে আবার কথা বলেন তিনি। জানতে চান ক্লিনিকের সেবার ব্যাপারে। মন্ত্রীকে স্থানীয়রা ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন। সেখান থেকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান মন্ত্রী। হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল পরিপাটি, গোছানো। ছিল ডাক্তার, নার্সদের উপস্থিতি। তবে রোগীরা বিভিন্ন অভিযোগ মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না পাওয়া, অব্যবস্থাপনা বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। পাশাপাশি দিনের ২টার পর ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসক না পাওয়ার কথা বলেন তাঁরা।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। রোগীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ওভারঅল এখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আমি খুশি মোটামুটি। ১০১টা নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। আমার মনে হয় এটি একটা ভালো উদাহরণ। এ উদাহরণ যদি সারাদেশে করতে পারি, তাহলে প্রসূতির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ভালো উন্নতি হবে। এখন থেকে আমি পুরো দেশ ঘুরব।

প্রান্তিক পর্যায়ে সেবার মান পরিদর্শন করা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যখনই ফাঁক পাবো, আমি বেরিয়ে পড়ব। প্রান্তিক পর্যায়ে কমিউনিটি, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা- সবখানে আমি যাবো। এসব জায়গায় যদি মানুষ ভালো স্বাস্থ্যসেবা পায়, তাহলে ঢাকা-চট্টগ্রাম শহরে ভিড় হবে না।

হাসপাতালে জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি গতকাল চট্টগ্রামে এসে একটা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমার মন খারাপ হয়ে গেছে। একটা হাসপাতালে যদি ইমার্জেন্সি ডাক্তার না থাকে, অক্সিজেন সিলিন্ডার খালি থাকে তাহলে তারা রোগীকে কী সেবা দেবে? প্রাইভেট ক্লিনিক অবশ্যই চলবে, আমি তার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু তাদের সব নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাহেনা আক্তার, চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আইএমই

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!