চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মেরিনা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি দুইদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমসহ হার্ট ফেইলিওরের কথা উল্লেখ করা হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ১০ জুলাই তাকে রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে।
মৃত মেরিনা বেগম (৩১) নগরীর পাহাড়তরী সাগরিকা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
ডাক্তাররা জানান, মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখা আছে ডেঙ্গু শক সিনেড্রোম, মায়োকার্ডা্ইটিস, এলভিএফ, ক্যাপ। মায়োকার্ডাইটিস হলো হৃদপিণ্ডের পেশির প্রদাহ এবং এএলভিএফ (ALVF)—একিউট লেফট ভেন্ট্রিকুলার ফেইলিওর।
মায়োকার্ডাইটিস থেকে হার্টের বাম পাশে হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়লে রক্ত পাম্প করতে পারে না। এর ফলে ফুসফুসে পানি জমে যায় এবং শ্বাসকষ্ট হয়। আর এটি বিভিন্ন ভাইরাস বা সংক্রমণের কারণে হয়ে হার্টের পেশি ফুলে যায় কিংবা ইনফেকশন হয়। আর ক্যাপ (CAP) হলো সাধারণত কমিউনিটি-অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মেরিনা বেগমের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শকে চলে যান। পাশাপাশি পেশির প্রদাহ থেকে হৃদপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। ফুসফুসে পানি জমে নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট থেকে রোগী মৃত্যুবরণ করেন।
৩১ বছর নারীর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হার্ট ফেইল হয়ে মারা যাওয়া ভয়ের ব্যাপার। সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। বৃষ্টির পর কোনোভাবে যেন বাড়ির আশপাশে, ছাদবাগানে পানি জমে না থাকতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম সিভির সার্জনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ জন। এ নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জন, মারা গেছে ১ জন। গত ফেব্রুয়ারিতে একজন ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিল।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ অনান্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৩ জন।
আইএমই/ডিজে




