ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছিল অনুশ্রী। হাতে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় মেয়েকে এমনভাবে দেখে একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন বাবা সুবল চন্দ্র দাশ। মেয়ের একটি ছবি ফেসবুকে দিয়ে লেখেন—‘মেয়েকে এমনভাবে দেখে কষ্টে আমার বুক ভেঙে যায়’। সবার কাছে মেয়ের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ চান তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছে ছোট্ট অনুশ্রী।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
অনুশ্রী চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীর রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বাবা সুবল চন্দ্র দাশ দন্তচিকিৎসকের সহকারী। পাহাড়তলীর মাস্টার লেন এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত অনুশ্রী।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনুশ্রীর জ্বর আসে। স্থানীয় একজন চিকিৎসককে দেখানোর পর ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হলে ফল পজিটিভ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসাও চলছিল। শুরুতে তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালোই ছিল। কিন্তু শুক্রবার হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হয়। দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম নগরের ওয়্যারলেস মোড় এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুশ্রীর বাবার বন্ধু সুজন চন্দ্র দাশ জানান, মেয়েটির অবস্থা খারাপ হওয়ার পর আইসিইউর জন্য কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করা হয়েছিল। পরে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।
বাড়ছে ডেঙ্গুর চাপ
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গত ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১১০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। মোট রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১৬ জন। এনিয়ে চলতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৬৩ জন।
একই প্রতিবেদনে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে।
মাসভিত্তিক হিসাবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪২৭ জন এবং মারা গেছেন ১২ জন। আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০২ জন, মৃত্যু ২ জন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের মাসভিত্তিক সংখ্যা হলো—জানুয়ারিতে ৬৮, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে ৩৭, জুন ১২২, জুলাই ৫৩৬, আগস্ট ১ হাজার ২০২ এবং সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৪২৭ জন।
আইএমই/ডিজে




