ডিসি হিলে গাড়িচাপায় অন্তঃসত্ত্বা কুকুরের মৃত্যু, সেই চালকের জামিন

চট্টগ্রামের ডিসি হিলে গাড়িচাপায় অন্তঃসত্ত্বা পথকুকুরের মৃত্যুর মামলার প্রধান আসামি বাবলা দাশ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। তবে মামলার চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি বাদিপক্ষকে না জানানোয় প্রশ্ন তুলেছেন তাদের আইনজীবী। তার প্রশ্ন, আমরা না জানলেও আসামি কীভাবে চার্জশিটের খবর পেলেন?

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন বাবলা দাশ। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

বাদিপক্ষের আইনজীবী নাজবীন সুলতানা জেনি জানান, বাবলা দাশ মামলার এক নম্বর আসামি। চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে তাদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি আসামির আত্মসমর্পণ ও জামিনের বিষয়টিও তাদের জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, প্রায় ১০ দিন আগে তারা চার্জশিট দাখিলের জন্য তাগাদা দিয়েছিলেন। এরপর চার্জশিট দাখিল হলেও বাদিপক্ষকে জানানো হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার পর ডিসি হিলের মূল ফটক দিয়ে বের হচ্ছিল একটি সাদা রঙের পিকআপ ভ্যান। ফটকের সামনে বসে থাকা একটি অন্তঃসত্ত্বা পথকুকুরের ওপর দিয়ে গাড়িটি চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কুকুরটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

ঘটনাটি ডিসি হিলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে প্রায় এক মিনিট তিন সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে গাড়ির চাকায় চাপা পড়ার পর কুকুরটিকে ছটফট করতে এবং আশপাশের আরও দুটি কুকুরকে সেখানে ছুটে আসতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় পরিবেশকর্মী তোফায়েল আহমেদ গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করার আবেদন করেন। পরে আদালত কোতোয়ালী থানা-পুলিশকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় পিকআপ ভ্যানের চালক ও একজন নিরাপত্তাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। পরে চার্জশিটে বাবলা দাশকে আসামি রাখা হলেও নিরাপত্তাকর্মীকে ‘নট সেন্ট আপ’ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন এবং পশু হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

এএইচ/ডিজে

ksrm