টেস্ট ক্রিকেটে সাকিবের আগ্রহ নেই: পাপন

0

দশদিনের ব্যবধানে এমন কথা দুইবার তুলেন সাকিব আল হাসান। সাকিব চান, তরুণ কাউকে যেন এখনই দলের নেতৃত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়। নেতৃত্বে না থাকলে নিজের খেলাটায় আরও মনোযোগ দিতে পারবেন, এমনটাও দাবি করেন দেশ ও বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের ক্রিকেট ঐতিহ্য বলছে, নেতৃত্ব পেয়ে গেলে সহজে সেটা ছাড়তে চান না ক্রিকেটাররা। দলের ব্যর্থতার পরও অধিনায়কত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করেন। সাকিব এই জায়গাটায় উল্টো, কারণটা কি?

সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক সাকিব বলছেন-‘আমি অধিনায়কত্বের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নই।’

আর সিরিজের একমাত্র টেস্টে হারের পর বলছেন-‘যদি নেতৃত্ব না দিতে হয় তবে সেটা আমার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। আমার মনে হয় সেটা আমার ক্রিকেটের জন্যই ভালোই হবে। আর যদি নেতৃত্ব দিতেই হয় তবে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে অনেককিছু নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন আছে।’

বক্তব্য পরিষ্কার। অধিনায়কত্বে অনীহা সাকিবের।

-বিসিবি কি ভাবছে এই ব্যাপারে। অধিনায়কত্বে অনিচ্ছুক অধিনায়ক কি সাফল্য এনে দিতে পারবেন?

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আকস্মিকভাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানেই সাকিবের অধিনায়কত্বে অনীহা এবং আফগানিস্তানের কাছে হারার পর দলের সার্বিক অবস্থা ও নিজের মতামত প্রসঙ্গে অনেক কথা বলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়-বারবার সাকিব বলছেন তিনি অধিনায়কত্ব করতে অনিচ্ছুক। তাহলে কি বিসিবি তাকে অধিনায়ক করে ভুল কোনো সিদ্ধান্ত নিলো। অনিচ্ছুক এক অধিনায়ক কি তার দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন?

নাজমুল হাসান পাপন লম্বা সময় নিয়ে এই প্রশ্নের যে উত্তর দিলেন, তার পুরোটাই থাকছে এখানে- ‘আমরা বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি টেস্টের ব্যাপারে ওর (সাকিবের) আগ্রহ নেই। বিশেষ করে দল যখন বিদেশে যাচ্ছিলো, তখন সাকিব টেস্ট ম্যাচের সময় ব্রেক চায়। স্বাভাবিকভাবে আমরা ধরে নিতে পারি টেস্ট খেলার প্রতি তার আগ্রহ কম। তবে ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে তার আগ্রহ কম সেটা আমি আগে কখনো শুনিনি। আর বিষয়টা হলো দলের অধিনায়ক হলেও আপনাকে টেস্ট খেলতেই হবে। অধিনায়ক না হলেও হয়তো তখন টেস্ট না খেলতে চাইলেও পারা যায়। এটা ঠিক যে ও অনেক সার্ভিস দিয়েছে। তবে আমাদের মনে হচ্ছে ওই এখন পর্যন্ত দলের অধিনায়ক পদের জন্য সেরা। আমাদের হাতে যে অপশন গুলো আছে তাতে সেই সেরা। অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে সে এখন পর্যন্ত আমাদের এমন কিছু বলেনি। হ্যাঁ, মিডিয়াতে বলেছে। যদি থাকি তবে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলতে হবে, এমন কিছু বলেছে শুনলাম। আমি কালকে (মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর) ওর সঙ্গে কথাবার্তা বলেছিলাম। কিন্তু, কই সে তো এমনকিছু আমাকে বলেনি। এই প্রসঙ্গে আমাদের আলোচনাও হয়নি। এখন সিরিজ চলছে। তাই আমরা ওর সঙ্গে ওটা নিয়ে (অধিনায়কত্ব অনীহা) কথা বলিনি। ও যদি তুলতো তাহলে আমরা বলতাম।’

এই প্রসঙ্গে তার বক্তব্যের একেবারে শেষ পর্যায়ে নাজমুল হাসান পাপন আরো যা বললেন তাতে বোঝা যাচ্ছে বিসিবি হয়তো খুব সিরিয়াসভাবে সাকিবের অধিনায়কত্বের অনীহা নিয়ে ভাবছে না। নাজমুল জানালেন-‘আমাদের ছেলেরা একটু আবেগী হয়। আফগানিস্তানের সঙ্গে হেরেছে। মনটন খারাপ। মাথাটাথা ঠান্ডা হোক, তারপর বলবো।’

চট্টগ্রাম টেস্ট ম্যাচের সেই সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ক্লিপিং নিশ্চয়ই আছে বিসিবি’র কাছে। সেটা আরেকবার দেখলেই বিসিবি বুঝতে পারবে-সাকিব আবেগী ছিলেন না। বরং বিসিবিকেই এখন বেশি বৈরাগী মনে হচ্ছে!

তবে টেস্ট ফরমেটে সাকিবের এমন অনেক রেকর্ড আছে, যেগুলো তাকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। সাকিব যদি আসলেই টেস্ট থেকে সরে যেতে চান, সেটা বাংলাদেশের জন্য বড় দুঃসংবাদই হবে।

Loading...
আরও পড়ুন