টানা বৃষ্টিতে ভিজছে চট্টগ্রাম, নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি নিম্নচাপ, ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। চট্টগ্রামে সকাল থেকেই টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। দুপুর ১২টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৫১০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৫২০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা থেকে ২৮৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা থেকে ৩৪০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল। এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলে ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সারাদিনই বৃষ্টি হচ্ছে।
উত্তাল সাগরের কারণে পর্যটকদের সমুদ্রে গোসল না করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি স্থানে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে লাইফগার্ড সদস্যরা মাইকিং করে গভীর পানিতে না নামার অনুরোধ জানাচ্ছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে।
তবে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও অনেক পর্যটক উত্তাল সমুদ্র দেখতে সৈকতে ভিড় করছেন। কেউ দূর থেকে ঢেউ উপভোগ করছেন, আবার কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সতর্কতা উপেক্ষা করে কিছু পর্যটককে সমুদ্রে নামতেও দেখা গেছে।
অন্যদিকে, উত্তাল মেঘনা নদীর কারণে নোয়াখালীর হাতিয়ার সঙ্গে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টির কারণে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহও প্রশমিত হয়েছে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
সিপি




