টানাহেঁচড়ায় রোগী কাহিল চট্টগ্রাম মেডিকেলের বার্ন ওয়ার্ডে, ‘ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ই নেই

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ওয়ার্ডে পোড়া রোগীর জন্য নেই ‘কম্প্রিহেসনিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয় পোড়া রোগীদের। চিকিৎসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে তাদের টানাহেঁচড়া করতে হয়। এতে করে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে রোগীর ক্ষতে। আর সংক্রমণের কারণে অনেক রোগীকে হারাতে হয় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মতে, পোড়া রোগীর চিকিৎসার জন্য সবকিছু এক ছাদের নিচে থাকতে হবে। যেটা অনেকটা ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারের মতো। এটিকে বলা হয় কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের বার্ন ওয়ার্ডে দেখা গেছে, ডাক্তার-নার্সের বদলে স্পেশাল আয়া-বয়রা ড্রেসিং করছে রোগীর। হঠাৎ রোগীকে এক্স-রে অথবা অন্য পরীক্ষা করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আরেক ওয়ার্ডে।

জানা গেছে, আগুনে পোড়া রোগী অনেক স্পর্শকাতর। তাদের ওয়ার্ডে মানুষের আনাগোনা করার সুযোগ নেই। ধুলোবালি ও মানুষের সংস্পর্শে এলে এসব রোগীর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেকে হাত-পা কেটে ফেলতে হয়। আবার অনেকে অঙ্গ হারিয়েও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেন না এই সংক্রমণের কারণে।

এমনই ভুক্তভোগী এক রোগী সাফা নূর। আগুনে পুড়ে বার্ন ইউনিটে ভর্তি হলে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। একইসঙ্গে আগুনে পোড়া রোগী অন্য রোগে আক্রান্ত থাকলে তাকে ওই রোগ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কারণ সেসব ওয়ার্ড থেকে কোনো ডাক্তার বার্ন ওয়ার্ডে আসেন না রোগী দেখতে। ফলে আগুনে পোড়া রোগীদের এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে নিতে অনেক টানাহেঁচড়া করতে হয়।

এছাড়া আগুনে পোড়া রোগীদের এক্স-রে, ইসিজি করতে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালের তৃতীয় তলায়। আবার অনেক পরীক্ষা বাইরের ল্যাবে নিয়ে গিয়েও করাতে হয়। এমন টানাহেঁচড়া করতে করতে রোগীর অবস্থা কাহিল হয়ে যায়।

এসব বিষয়ে জানতে কথা হয় বার্ন ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিক উদ্দিন আহমদের সঙ্গে। তিনি চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘মূলত যে কোনো বার্ন ওয়ার্ড ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারের আদলে হওয়া উচিত। একই ছাদের নিচে আগুনে পোড়া রোগীর জন্য যেসব সেবার দরকার হবে, সব ব্যবস্থা থাকতে হবে। যেটাকে বলা হয় কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট, যা এখানে নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৬ সিটের ওয়ার্ডে আমি ৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছি। ফ্যাসিলিটি সংকট, জনবল সংকট, স্পেস কসকট বার্ন ইউনিটের প্রধান সমস্যা।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!