টাকা হাতিয়ে ‘পলাতক’ রেল কর্মচারী অফিস না করেও তুলছেন বেতন

চাকরি দেওয়া নামে টাকা মেরে খাওয়া চট্টগ্রামের এক রেল কর্মচারী অফিস না করেও বেতন তুলছেন। পাওনাদারের ভয়ে গা-ঢাকা দেওয়া এ কর্মচারী এভাবে বহু লোকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এ ঘটনায় রেল দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্তে নামে কর্মকর্তারা। পরে পুলিশে জানালে তার খোঁজে দপ্তরে আসে তারা। এমনকি পাওনাদারদের অনেকেই প্রায় সময় অফিসে গিয়ে তার খোঁজ করতে থাকেন বলেও জানিয়েছেন একাধিক কর্মচারী।

রেলের ওই কর্মচারীর নাম মোহাম্মদ হোসেন। তিনি সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তর পাহাড়তলীতে মেটারিয়াল চেকার (সিপিং) হিসেবে কর্মরত আছেন।

দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ৯ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪ মাস কোনো কারণ ছাড়াই তিনি দপ্তরে অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে তিনি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন তিনি।

কিভাবে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা তুলছেন, জানতে চাইলে দপ্তরের এসএসএই মনিরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এলইপি ছুটিতে ৬ মাস পায়। তবে এক্ষেত্রে তাকে আবেদন করতে হবে। কিন্তু তিনি আবেদন না করায় পরবর্তী সকল বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।

হোসেন বেতন-ভাতা কিভাবে তুলেছেন, সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (শিপিং) আসিফুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে কিভাবে বেতন পেয়েছে, আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নুসরাত জাহান নামে এক নারী চাকরি দেওয়ার নামে তার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়েছেন মর্মে হোসেনের বিরুদ্ধে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরে অভিযোগ দেন। পরে সেটি সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রককে (শিপিং) তদন্তের আদেশ দেওয়া হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা দপ্তরের এসএসএই সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ওই নারীর অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

পাহাড়তলীর সিসিএস দপ্তরের প্রধান গেটের আরএনবি সিপাহী মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রায় সময় পাওনা টাকার জন্য হোসেনের খোঁজে বহিরাগত লোক আসে। সম্প্রতি পুলিশের লোকজনও এসেছে।

অভিযোগের সত্যতা জানতে মোহাম্মদ হোসেনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জেএস

ksrm