টাকা না ছুঁয়েও জাল ঋণের ফাঁদে চট্টগ্রামের জান্নাতুল

0

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের জাল ঋণের ফাঁদে পড়ে কাঁদছেন জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৯) নামের এক নারী। এই প্রতিষ্ঠানটির ডাইরেক্টর পদে থাকলেও ঋণের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেননা বলে দাবি করেন। এদিকে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় জামিল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌসহ ৪ পরিচালক ও তিন ব্যংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কমার্স ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের হটলাইন ১০৬ নম্বরে ফোন করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন জানিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন জান্নাতুল। একই সঙ্গে দুদক জেলা সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-১—এ একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার সরাই পাড়ার গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকার ৭ নম্বর বাড়ির মাঈন উদ্দিন মিয়ার স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারি কাজের অনুকূলে ঋণ প্রদান করে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের আগ্রাবাদ শাখা। দীর্ঘ সময় ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা অনাদায়ী দেখিয়ে জামিল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ৪ পরিচালকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে ব্যাংকটি। ওই মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে সব পরিচালকের বিরুদ্ধে।

এদিকে জান্নাতুল ফেরদৌস বলছেন—এই ঋণ জালিয়াতির মামলার আসামি না হয়েও গ্রেপ্তারি পয়োরানা নিয়ে ঘুরছি পথে পথে। স্বামী মাঈন উদ্দিন জামিল এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক করেন। বিষয়টি এতো বড় হবে তাও বুঝিনি। কিন্তু ব্যাংক ৮০ লাখ টাকা নেওয়ার সময়ও কোন সাক্ষরও করিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস আরো বলেন, ‘আমি জামিল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ঋণের বিষয়টি জানতাম না। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর পেয়ে ব্যাংকে গিয়ে মামলার কাগজপত্র তুলে দেখতে পাই, আমার নামে ব্যাংকের ঋণ। ওই টাকা না ছুঁয়েও কথিত অনাদায়ী ঋণের মামলার আসামি হলাম আমি। তাই আমিও জানতে চাই আমার স্বাক্ষর কে দিয়েছেন, ঋণ কে নিয়েছেন, আর ব্যাংক কাকে ঋণের টাকা দিয়েছে, সেই টাকা এখন কোথায়?’

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ ব্যাংকের দায়েরকৃত সিআর মামলা নম্বর ৬৯০/২০১৯ (ডবলমুরিং)—এ জামিল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. জামিল উদ্দিন ও তার স্ত্রী (নাম জানা যায়নি), ডিরেক্টর মাঈন উদ্দিন মিয়া ও তার স্ত্রী ডিরেক্টর জান্নাতুল ফেরদৌস, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড আগ্রাবাদ শাখার এভিপি ও শাখা প্রধান মোহাম্মদ আবুল হোসেন, এফইউ এবং ঋণ কর্মকর্তা মো. শাহনেওয়াজ, ইও হাফেজ আহমেদকে আসামি করে ওই মামলা দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড আগ্রাবাদ শাখার এভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, ‘জামিল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডকে যখন ঋণ দেয়া হয়েছে, তখন আমি এই শাখায় ছিলাম না। আমি আসার পর অনাদায়ী ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জামিল এন্টাপ্রাইজ লি. সরকারি সংস্থায় নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের চার পরিচালকের একজন জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি জানেন না এটা কিভাবে সম্ভব? আর ব্যাংক ঋণ নেয়ার সময় সব পরিচালক উপস্থিত থাকা জরুরি না। তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে সবাই সমান অংশীদার।’

মুআ/এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন