চট্টগ্রাম নগরের চাক্তাইয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়ে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হন এক বিশ্বস্ত কর্মচারী। সাত বছরের আস্থার সম্পর্ক ভেঙে ঘটানো এই আত্মসাতের ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে খুলনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আত্মসাৎ করা অর্থের ৯৫ শতাংশও উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাটি চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা এলাকার চাউল পট্টি চাক্তাইয়ে। গত ২ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটনের সোনাডাঙা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপি বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান।
গ্রেপ্তার আসামি মো. আলী (৪৪) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ বারখাইন ইউনিয়নের মির্জা আলী মুন্সীর বাড়ির মফজল আহমদের ছেলে। তিনি বাকলিয়ার চাক্তাই ছোবন সওদাগর রোডের ‘মদিনা স্টোর’-এ কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন এবং দোকানের দ্বিতীয় তলায় থাকতেন।
বিশ্বাসভঙ্গের নাটকীয় কাহিনি
মামলার বাদী মো. মোরশেদ কামাল (৪২) পেশায় ব্যবসায়ী। চাক্তাইয়ের ছোবন সওদাগর রোডে তার ‘মদিনা স্টোর’ নামে একটি দোকান রয়েছে। গত সাত থেকে আট বছর ধরে সেখানে কাজ করছিলেন মো. আলী। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নিয়মিত ব্যাংক লেনদেনের দায়িত্বও পালন করতেন তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলামী ব্যাংক চাক্তাই শাখার হিসাব থেকে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য একটি চেক নিজের বড় ভাই জসিম উদ্দিনকে সঙ্গে দিয়ে আলীর কাছে পাঠান মোরশেদ। টাকা উত্তোলনের পর কৃষি ব্যাংক চাক্তাই শাখায় জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল।
ব্যাংকে গিয়ে চেক জমা দেওয়ার সময় আলী জসিম উদ্দিনকে কৃষি ব্যাংকে যেতে বলেন এবং জানান, তিনি টাকা নিয়ে আসছেন। জসিম উদ্দিন সেখানে গেলেও আলী আর যাননি। পরে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে থানায় মামলা করেন মোরশেদ কামাল।
প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত
মামলার পর সিএমপির দক্ষিণ জোনের উপকমিশনার মো. হোসেন কবির ভূঁইয়া ও এডিসির দিকনির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানের নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা চাক্তাই ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোবারক হোসেন প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করেন। নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি খুলনায় অবস্থান করছেন।
এরপর খুলনা মেট্রোপলিটনের সোনাডাঙা থানা এলাকায় টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আসামির কাছ থেকে আত্মসাৎ করা টাকার ৯৫ শতাংশ জব্দ করা হয়েছে। টাকা উদ্ধারের সময় ভিকটিম মোরশেদ কামাল উপস্থিত ছিলেন।
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। শিগগিরই তাকে আদালতে পাঠানো হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
মামলার বাদী মো. মোরশেদ কামাল বলেন, তারা বর্তমানে গাড়িতে রয়েছেন এবং আসামি গ্রেপ্তার আছেন। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করেছে বলেও জানান তিনি।




