ঝুট ব্যবসার বিরোধে ফটিকছড়িতে ‘টার্গেট কিলিং’, বিদেশে বসে ছক আঁকেন ‘বড় সাজ্জাদ’

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঝুট কাপড়ের ব্যবসার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন জামায়াতকর্মী জামাল উদ্দিন। বিদেশের মাটিতে বসে এই খুনের পরিকল্পনা ও সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন দীর্ঘ দুই দশক ধরে পলাতক থাকা সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ। শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর লেলিয়ে দেওয়া ঘাতকদের হাতেই প্রাণ দিতে হয়েছে একসময়ের ব্যবসায়িক অংশীদারকে।

ব্যবসায়িক বিরোধ ও বিশ্বাসঘাতকতা

হত্যাকাণ্ডের এই চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে নগরের কোতোয়ালী থানার লালদীঘি পাড় এলাকা থেকে নাজিম উদ্দিন ওরফে বাইট্ট্যা নাজিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‍্যাবের একটি যৌথ দল। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আদালতে হাজির করা হলে নাজিম এই হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

৪৫ বছর বয়সী নিহত জামাল উদ্দিন, ৪২ বছর বয়সী আহত নাছির উদ্দিন এবং গ্রেপ্তার হওয়া নাজিম দীর্ঘদিন ধরে ঝুট কাপড়ের ব্যবসা করে আসছিলেন। এই ব্যবসার পুরো নিয়ন্ত্রণ বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের হাতে থাকলেও গত বছর একটি পোশাক কারখানার ঝুট কাপড়ের টেন্ডার পাওয়া নিয়ে জামালের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ওই টেন্ডারটি জামাল পেয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে এবং এর জের ধরেই বড় সাজ্জাদ তার বাহিনীতে জামালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাজিমকে ভিড়িয়ে নেন।

জামালের সহযোগীই বিশ্বাসঘাতক

বুধবার বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ। তিনি জানান, শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর গ্রামের দীঘিরপাড় এলাকায় মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় পরিকল্পিত হামলার শিকার হন জামাল উদ্দিন ও নাছির উদ্দিন। মূলত নাজিমই জামালের প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করছিলেন ঘাতকদের কাছে।

ঘটনার রাতে তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে পথ দেখিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান তিনি। সেখানে তার উপস্থিতিতেই এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে জামালকে হত্যা করা হয় এবং এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা নাছির উদ্দিন গুরুতর আহত হন। হত্যাকাণ্ডের পর জামালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যান নাজিম। পরে সেটি তিনি ফটিকছড়ির লেলাং গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে কাবিল মিস্ত্রির বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। গ্রেপ্তার নাজিমের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরে ওই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। এর আগে ঘটনাস্থল থেকে ১১টি পিস্তলের খোসা উদ্ধার করা হয়েছিল।

নিজস্ব গ্রুপ ছিল জামালেরও

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, নিহত জামালের বিরুদ্ধেও তিনটি হত্যা মামলা ছিল এবং তার একটি ছোটখাটো নিজস্ব গ্রুপ ছিল। তবে বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলীর সংগঠিত বাহিনীর সঙ্গে তিনি পেরে ওঠেননি। এই হত্যাকাণ্ডে বড় সাজ্জাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ইমন ও মোবারক সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, বিদেশে অবস্থান করে চট্টগ্রামের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করা সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ এক সময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকায় ‘শিবির ক্যাডার’ হিসেবেই পরিচিত।

এএইচ

ksrm