পল্টুনের তিনটি পিলার ভেঙে যাওয়ায় ছয় মাস আগে চালু হওয়া কক্সবাজারের পেকুয়া-কুতুবদিয়া রুটের একমাত্র সি-ট্রাক টানা পাঁচ দিন ধরে বন্ধ। ফলে উত্তাল সাগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প নৌযানে চলাচল করছেন দ্বীপটির প্রায় দুই লাখ মানুষ।
কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ঘাট থেকে পেকুয়ার মগনামা ঘাটে চলাচলকারী একমাত্র নিরাপদ নৌযান সি-ট্রাকের সেবা বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। জেটি পল্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নৌযানটি ঘাটে ভিড়তে পারছে না, ফলে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন দ্বীপবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সি-ট্রাক বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাঠের তৈরি পুরনো ডেনিশ বোট ও ঝুঁকিপূর্ণ স্পিডবোটে কুতুবদিয়া চ্যানেল পার হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের উত্তাল সাগরে এসব নৌযানে চলাচল নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়ছে।
জানা গেছে, সি-ট্রাকটি বর্তমানে চ্যানেলে নোঙর করা থাকলেও বড়ঘোপ জেটি পল্টুনের তিনটি প্রধান স্তম্ভ (পিলার) ভেঙে যাওয়ায় সেটি ঘাটে ভিড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। নিরাপত্তার স্বার্থে পাঁচ দিন আগে থেকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী রেজাউল করিম বলেন, নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহের কাজে পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। সি-ট্রাক চালু থাকলে নিরাপদ ও স্বল্প সময়ে পারাপার সম্ভব হতো। এখন হাজারো যাত্রীর মতো তাকেও ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প নৌযানে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত জেটি সংস্কার করে সি-ট্রাক চালুর দাবি জানান তিনি।
সি-ট্রাক ‘এসটি নিঝুম দ্বীপ’র মাস্টার একরামুজ্জামান বলেন, জেটি পল্টুনের তিনটি পিলার ভেঙে যাওয়ায় ঘাটে সি-ট্রাক ভেড়ানো যাচ্ছে না। মেরামত কাজ শেষ হলেই পুনরায় যাত্রী পারাপার শুরু করা হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুদ্র কুমার দাস জানান, প্রকৌশলী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দু-এক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছাবে। স্থায়ী মেরামতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে, তবে কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
এএইচ




