লকডাউনে দীর্ঘশ্বাস যেন আরও দীর্ঘ হয়েছে নগরের বস্তিতে বাস করা মানুষগুলোর। বস্তির অপরিচ্ছন্ন, ঘিঞ্জি ঝুপড়িগুলোতে তাদের বাস। নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল এই মানুষগুলো রিকশা চালিয়ে, ভ্যান চালিয়ে, কাগজ কুড়িয়ে, বাসাবাড়িতে কাজ, হকার অথবা ভাসমান ছোটখাট ব্যবসায় জীবীকা চালাতেন তারা। দিনে এনে দিনে খাওয়া এ হতদরিদ্রদের ঘরে কখনো খাবার থাকে আবার কখনো থাকে না। লকডাউনে তাদের আয় বন্ধ। কারও ঘরে ত্রাণ ফুরিয়েছে, কেউ একেবারেই পাননি, যেন এক অনিশ্চিত সাহায্যের আশায় কেবলই দিন গোণা!
জেলা প্রশাসন, চসিক, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা, ব্যক্তিসহ অনেক মানুষ দরিদ্র দিনমজুরের সহায়তায় এগিয়ে এসে নগরের নানা জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করছেন। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে বস্তিবাসীদের খবর নেওয়ার যেন কেউ নেই। বস্তিতে ব্যক্তি পর্যায়ে খানিকটা ত্রাণ বিতরণ হলেও তা কয়েকশ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
সরেজমিনে রোববার (২০ এপ্রিল) লালখাবাজার মতিঝর্ণা বস্তিসহ নগরীর কয়েকটি বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, খালি গায়ে খেলছে কয়েকজন শিশু, রায়হান, হাশেম, মতি, আরিফ, মিন্টু। তাদের সাথে কথা বলি। তারা জানায়, প্রতিদিন ভাত খাওয়া হয় না। কারও বাবা নেই, কারও মা মানুষের ঘরে কাজ করত। এখন মা কাজে যেতে পারে না। সিদ্ধ আলু খেয়ে বা না খেয়ে থাকতে হয়।
আলেয়া খাতুন নামের এক গৃহকর্মী বলেন, ‘আশপাশের বিভিন্ন বাসায় কাজ করে কোন রকমে সংসার চালাই। দেশে কি যেন হইল। তার জন্য এক মাসের মত কাজ নাই। ঘরে কোন খাবার নেই। ঘরে বাচ্চা আছে। তাদের ফেলে সাহায্য খুঁজতে বের হইনি। ঘরে এসে কেউ কোন ত্রাণও দেয়নি বলে সাহায্যও পাইনি। ভবিষ্যতে কী হবে জানি না।’
চট্টগ্রাম নগরের দুই শতাধিক বস্তি আছে। তৎমধ্যে উল্লেখ্য হলো ডেবার দিঘীর পাড় বস্তি, সিডিএ চরপাড়া বস্তি, ঝিলের পাড় এক, দুই,তিন নম্বর বস্তি, মতিঝর্ণা বস্তি, ফিরোজ শাহ কলোনি, রৌফবাদ কলোনি, বেলতলি ফিরোজ শাহ কলোণি, খুলশী টাওয়ার বস্তি, তাহরে বস্তি, লালখানবাজার বাঘঘোনা বস্তি, বাটালি হিল বস্তি, বরিশাল কলোনি, রাহাত্তারপুল বৌ বাজার কলোনি, বগার বিল বস্তি, বেলুয়ার দিঘী বস্তি, আমবাগান বস্তি, পতেঙ্গা আনন্দ বাজার, আকমল আলী বস্তি, গোয়ালপাড়া বস্তি, পাহাড়তলী এস্ক্রাব বস্তি, সেগুন বাগানরবস্তি, নিমতলা বস্তি, মনোহর খালী বস্তি, আকবর শাহ শহিদ লেইন বিহারী কলোনি, ষোলশহর তুলাতলী বস্তি, ফয়েজলেক বাস্তুহারা কলোনি, ঝাউতলা ট্যাংক বস্তি ও বিহারি কলোনি।
সংশ্লিষ্টরা আশংকা করছেন খাদ্যের অভাবে নগরীতে বেড়ে যেতে পারে চুরি, ছিনতাই সহ নানা ধরনের অপরাধ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা সজীব চক্রবর্তী বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম মহানগরে ১ লাখ ৩৮ হাজার পরিবারের মধ্যে ৬শ ৯০ হাজার মেট্রিকটন চাল ও নগদ ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। নিম্নবিত্ত, হতদরিদ্র, মধ্যবিত্ত, বস্তিবাসীসহ সবাই এই চলমান সহায়তার আওতায় এসেছে। তবে শুধুমাত্র বস্তিতে বসবাসরতদের জন্য আলাদা করে কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। ’
সিএম/এসএস




