জিডির তদন্ত করায় এসআইকে ‘ফাঁসানোর’ পাঁয়তারা একাধিক মামলার আসামির

চট্টগ্রামের এক শ্রমিক নেতার কাছে জিম্মি ট্রাফিক পুলিশ ও বিআরটিএ কর্মকর্তারা। স্বার্থে আঘাত আসলেই দেন হুমকি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করেন অপ্রপ্রচার। থানায় বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে করেন হয়রানি। সম্প্রতি তার এমন রোষানলের স্বীকার হয়েছেন এক পুলিশ ও বিআরটিএ কর্মকর্তা।

এই অভিযুক্ত হলেন চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পো শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম খোকন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর, হুমকিসহ বেশ কয়েকটি মামলা আছে নগরের বিভিন্ন থানায়।

তবে জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পো শ্রমিক লীগ নামের কোন সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়া চট্টগ্রামে এ নামের সংগঠন কারা চালান, এটিও তিনি জানেন না।

জানা গেছে, গত ২৬ জুন বিআরটিএ’র হালিশহর এলাকার মোটরযান পরিদর্শক সাইফুর ইসলাম হুমকির অভিযোগ এনে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে সেটির তদন্তে নামে পুলিশ। কিন্তু সেই তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ ঠুকে দেন থানায়।

ওই জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়া নজরুল ইসলাম খোকনের নেশা ও পেশা। তিনি বিভিন্ন সময় বিআরটিএ’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বশে আনার জন্য পাঁয়তারা করেন। তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে অফিসের ভেতরেই উচ্চবাক্য করেন, গালমন্দ করেন। এছাড়া তিনি আমাকে রাস্তায় একা পেয়ে গালমন্দ করেন ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এই জিডির তদন্তভার দেওয়া হয় হালিশহর থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানাকে।

সোহেল রানা তদন্তভার গ্রহণের পর আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের বিবাদির থানার নাম-ঠিকানা যাচাই করেন। এমন খবর পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মিথ্যা অভিযোগের তদন্ত ও হয়রানি করার অভিযোগ এনে উল্টো নগর পুলিশ কমিশনার বরাররে একটি অভিযোগ দায়ের করেন সোহেল রানার বিরুদ্ধে।

জানতে চাইলে হালিশহর থানার উপ পরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, ‘আমাকে থানা থেকে অভিযোগের তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে আইনানুগ যা আনুষ্ঠানিকতা দরকার, সবই করেছি। কিন্তু হঠাৎ নজরুল ইসলাম খোকন আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের কাছে। তার বিপরীতে আমিও একটি জিডি করি তার বিরুদ্ধে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটেম্পো শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘আমি বিআরটিএ’র অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলি, তাই এই দপ্তরের কর্মকর্তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছে। আর তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে এবং ওই অফিসারের যোগসাজশ আছে। তাই আমি তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছি।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!