জামায়াতের শামসু-আহসানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হচ্ছে!

0

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে (আইআইইউসি) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি সাজানো। ছবিতে কাদের হাতের ছাপ আছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা আদালতের অতিরিক্ত পিপি ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক কামাল উদ্দীন বাদি হয়ে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলায় আইআইইউসির বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও জামায়াতের নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম, ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ, শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, কাউছার আহমেদ. শফিউল আজম ও নিজাম উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে ৬০ থেকে ৭০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার কর্নেল (অব) মো. কাশেম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ছবি ভাংচুর করেছে কারা সেটা তদন্ত হচ্ছে। ঘটনার দিন কারা ওখানে গিয়েছে সেটা সিসি ক্যামরায় আছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হয়। আমরা নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি। মন্ত্রণালয়ে অনুমতির আবেদন করেছি। সেখান থেকে নির্দেশনা আসলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ওই ক্যাম্পাসে গিয়ে ছবি ভাঙচুরের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা তাকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেয়।

২৯ জানুয়ারি হল খালি করার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আইআইইউসির এক কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রদের হল খালি করার নোটিশে সবাই যখন হল ছাড়ছিল তখন ছাত্রলীগ নামধারী কয়েকজন শিক্ষার্থী উপরে উঠেছিল। এরপর ভাংচুরের শব্দ পাই আমরা। উপস্থিত পুলিশ প্রশাসনের নজরেও আমরা এনেছিলাম। এখন মামলাও হয়েছে, বিশ্ববিদ্যায়ল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ছবিতে কার কার আঙ্গুলের ছাপ আছে তা বেরিয়ে আসবে।

প্রসঙ্গত, ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার রাতেই এই মামলাটি দায়ের হলো। রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যায়টির রেজিস্ট্রার কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. কাশেম বলেন, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বহুল নন্দিত এবং সফল উদ্যোগের নাম। যা জাতির জন্য ব্যাপক কল্যান বয়ে আনে। সেশনজট, অপরাজনীতি ও অপতৎপরতামুক্ত উচ্চশিক্ষা প্রদানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সারাদেশে একটি বিপ্লব সাধন করেছে। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এ বিপ্লবের প্রথম সারির অংশীদার। এটি ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ শত বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যে গ্রাজুয়েটদের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন ৩৫০ জন শিক্ষকসহ প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষক আছে। এর মধ্যে ১০১ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী।

তিনি আরও বলেন, বিগত ২৫ বছরে প্রতিষ্ঠানটিকে কখনো সেশনজটের শিকার হতে হয়নি। এমনকি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত ২৭ জানুয়ারি হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থীর ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার করে এবং তারা ক্লাস ছেড়ে এর প্রতিবাদে যোগ দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জানুয়ারি এক জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যায়ের আবাসিক হলগুলো এবং শ্রেণি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

যার কারণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে অনায্য দাবি আদায়ে চাপ দিতে থাকে। একইসাথে তারা অনৈতিকভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, অসৌজন্যমূলক আচরণ, প্রকাশ্যে দিবালোকে শিক্ষকদের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নির্মম নির্যাতন, শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হেনস্তা, হুমকি, অফিস কক্ষ ভাংচুর এবং শিক্ষকদের বাসভবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ডাইনিং টেবিলে ফ্রি খাওয়া, ডাইনিং ম্যানেজারের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা ছিনতাই, হলে রেজিস্ট্রেশনবিহীন অবৈধ অবস্থানসহ বহিরাগতদের আশ্রয় দেয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সভা-সমাবেশ, মিটিং-মিছিল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এফএম/এসএইচ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন