জমি নিয়ে বিরোধ, কুপিয়ে জখমের ৬ দিন পর সুপারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পৈত্রিক জমি বিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী হামলার ছয়দিন পর প্রাণ হারালেন স্থানীয় সুপারি ব্যবসায়ী আবুল কাসেম।

সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহত আবুল কাসেম (৫৫) পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল বাজার এলাকার বাসিন্দা ও মৃত আয়ুব আলীর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ছিবাতলী এলাকায় প্রতিবেশী ইকবাল হোসেন ও তার লোকজনের সঙ্গে আবুল কাসেমের দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল।

গত ১৫ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে নিজ জমিতে কাজ করতে গেলে ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে আবুল কাসেম ও তার ভাই আবুল কালাম গুরুতর আহত হন।

এসময় গুরতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ছয়দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত সোমবার ভোরে না ফেরার দেশে চলে যান আবুল কাসেম।

এদিকে গুরুতর আহত আবুল কালাম এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ ঘটনায় গতকাল ১৯ এপ্রিল নিহত আবুল কাশেমের ছোট ভাই আবুল মনছুর বাদি হয়ে ইকবাল হোসেনকে প্রধান আসামি করে আরও দু’জনকে এজহারভুক্ত এবং অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

নিহতের ছোট ভাই আবুল ফয়েজ বলেন, এটা পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ইকবালের বিরুদ্ধে আগেও হত্যা মামলা রয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, এ ঘটনায় পূর্বে দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রধান আসামি ইকবালসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ডিজে

ksrm