দীর্ঘ ২৬ বছর পর জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাৎ মামলায় পাঁচ সাবেক কর্মকর্তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড কর্পোরেট শাখার সাবেক কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন এবং জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক এসপিও মো. সাঈদ হোসেন। তবে খালাস পেয়েছেন একই শাখার সাবেক কর্মকর্তা নুরুল হুদা। এছাড়া মামলার আরেক আসামি আবু বকর সিদ্দিকীর রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও নথিপত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় পাঁচ বছর, ৪২০ ধারায় দুই বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড কর্পোরেট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও গ্রাহক যোগসাজশে বিভিন্ন হিসাব থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেন। পরে সেই অর্থ চলতি ও এসটিডি হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।
বিশেষ পরিদর্শন টিমের তদন্তে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে। ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়।
এ ঘটনায় ২০০০ সালের ৬ এপ্রিল ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করেন ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কাসেম মিয়া। তদন্ত শেষে ২০১১ সালে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং ২০১৩ সালে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
এএইচ/ডিজে




