s alam cement
আক্রান্ত
৪৫৭০৮
সুস্থ
৩৪৯৫২
মৃত্যু
৪৩৭

চোরাই তেলের বড় বাণিজ্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কে

0

চট্টগ্রামের ইপিজেড, বন্দর থানা এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে গাড়ির চোরাই তেলের ব্যবসা। বিনা অনুমতিতে ভিআইপি সড়কের পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এসব অনুমোদনহীন তেল বেচাকেনার দোকান। চট্টগ্রামের বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানা এলাকায় তেল বেচাকেনার দোকানের অনুমতি রয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৫টি। অথচ সেখানে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে অর্ধশত চোরাই তেলের ভাসমান দোকান। সরেজমিনে দেখা গেছে এ চিত্র।

শুধু দোকানের ভেতরেই নয়, কোথাও কোথাও খোলা আকাশের নিচেও প্রকাশ্যে চলছে বিভিন্ন ধরনের এসব দাহ্য পদার্থের বিকিকিনি। ঝুঁকিপূর্ণ এ তেলের বেচাকেনার করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও এসব বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। অভিযোগ রয়েছে, ইপিজেড ও বন্দর থানার কথিত ক্যাশিয়ারের সাপ্তাহিক মাসোহারায় চলছে অবৈধ এসব বিষ্ফোরক তেলের ব্যবসা।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিস্ফোরক অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নীরব সম্মতি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বছর ভিত্তিক ‘আইওয়াশ’ তদারকির কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে এসব চোরা তেলের ব্যবসায়ীদের বিষ্ফোরণ লাইসেন্স নবায়নের কাজও।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইপিজেড থানার সালাউদ্দিন গেইট, সিমেন্টক্রসিং, নেভি হাসপাতাল ভিআইপি সড়কে রয়েছে প্রায় ১৫টি, বন্দর থানার মাইলের মাথা, বন্দরের বাইপাস সড়কের সড়কের পাশে রয়েছে প্রায় ৩৫টি তেল বেচাকেনার দোকান।

সূত্রে জানা যায়, সরকারি সায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে কেনা বিভিন্ন কোম্পানির তেলের ভাউচারের চালকরা মূলত এসব তেল বিক্রি করার সঙ্গে জড়িত। চালকরা ভিআইপি সড়কের গাড়ি থামিয়ে বড়বড় পাইপের মাধ্যমে অল্প সময়ে ভাউচার থেকে নামিয়ে ফেলে তেল। এসব তেলের মধ্যে রয়েছে কেরোসিন, অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল। এ ছাড়া বন্দর থানা কেন্দ্রিক যেসব তেলের দোকান রয়েছে এসব দোকান চোরাই তেল কিনছে চট্টগ্রাম বন্দর ও কনটেইনার ডিপো থেকে বের হওয়া কনটেইনারবাহী লরি ও কাভার্ডভ্যান থেকে।

Din Mohammed Convention Hall

সড়কে একাধিক ভাসমান তেলের দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেলের ভাউচারগুলো অধিকাংশই হল সরকারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার। তবে এগুলো সেখান থেকে কেনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কেনা তেল। চালকের মাধ্যমে অর্ধেক দামে এসব তেল কিনে চোরাই তেলের ভাসমান দোকানিরা। প্রকাশ্যে চোরাই তেলের ব্যবসা বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আরও জানান, বেশ-কম প্রশাসনকে টাকা তো দিতে হয়। টাকা না দিলে তো আর এসব ব্যবসা করা যাবে না। অধিকাংশই ব্যবসায়ীদের নেই বিষ্ফোরক লাইসেন্স। স্তরে স্তরে ম্যানেজ করে চালানো হচ্ছে ব্যবসা। এমনকি স্থান ভেদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পকেটেও যাচ্ছে নিয়মিত মাসোহারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সড়কের পাশে যত্রতত্র অনুমোদনহীন ভাসমান তেলের দোকানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার জন্য বন্দরের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়েছিলাম। তারা ওই সময় একটা অভিযানের চালানোর জন্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয়। পরে বিভিন্ন কারণে ওই অভিযান পরিচালনা পিছিয়ে যায়। তবে আবারও নতুন করে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিএমপির পতেঙ্গা, ইপিজেড ও বন্দর থানা এলাকায় ৪ থেকে ৫টি বিস্ফোরক লাইসেন্স নেওয়ার অনুমোদন রয়েছে। তবে যাদেরকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে তারা চোরাই তেল কিনতে পারবে না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. আজিজুল ইাসলাম বলেন, ‘আমি ছুটিতে আসছি। এসেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে চলে ভাসমান ঝুঁকিপূর্ণ চোরাই তেলের ব্যবসা এমন প্রশ্নের জবাবে বন্দরের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দরজোন) অলক বিশ্বাস বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বিষ্ফোরক কর্মকর্তারা আমাদের সহযোগিতা চাইলে তাদেরকেও অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে’।

কেএস

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm