চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘৫৬’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ৫৬ দিনের মধ্যেই কেন অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা হয়েছে, তা জানতেই এ প্রতীকী প্ল্যাকার্ড দেখানো হয়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটডাউন চলছে, স্থগিত রয়েছে ক্লাস ও পরীক্ষার।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটায় উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনও আন্দোলন চলেছে। এ আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে থেকে শুরু হয়। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে ছিল ‘৫৬’ লেখা প্ল্যাকার্ড। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কেন সরিয়ে দেওয়া হলো এমন প্রশ্নে প্রতীকীভাবে ‘৫৬’ লিখে সেটিই তুলে ধরা শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার এলাকায় প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান করেন এবং উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জানায়, অধ্যাপক সায়েম অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য শিক্ষক ও উপাচার্য ছিলেন। তার ৫৬ দিনের নেতৃত্বে চুয়েট দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে ছিল। হঠাৎ তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তাকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।
মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা আবার শহীদ মিনার এলাকায় ফিরে অবস্থান নেন। পরে সেখানে আন্দোলনের অংশ হিসেবে পথনাটক পরিবেশন করা হয়। পথনাটকের মাধ্যমে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এবং এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্ন ও ক্ষোভ তুলে ধরার চেষ্টা করেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। চুয়েট পরিবারের উদ্বেগ, দেশ-বিদেশের অ্যালামনাইদের সংহতি, আন্তর্জাতিক একাডেমিক মহলের সমর্থন ও অধ্যাপক সায়েম স্যারের গৃহীত শিক্ষা ও গবেষণামুখী উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে চলমান পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করা হবে এটাই প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়োতোষ চক্রবর্তী জানান, দাবি একটাই অধ্যাপক সায়েম স্যারকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। সম্মানিত শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।
আরএ/ডিজে




