চুনতি অভয়ারণ্য সংকটে: পাহাড় কেটে বসতি, খাবারের খোঁজে লোকালয়ে হাতির পাল

মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে হাতির বিচরণভূমি, নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড় ও বন। ফলে আবাসস্থল হারিয়ে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে হাতির পাল, বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক এক আলোচনা সভায় এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বক্তারা।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি আর্ক রিসোর্টের হলরুমে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত ‘বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং মানুষ-হাতি সহাবস্থান নিশ্চিত করতে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় পাহাড় নিধনের প্রতিযোগিতা চলছে। একটি মহল দিন-রাত পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য পাহাড়। এর ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। যেখানে ফলদ ও বনজ গাছে সমৃদ্ধ বনভূমি গড়ে ওঠার কথা, সেখানে নির্বিচারে গাছ কেটে বনের সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও ধ্বংস হচ্ছে। হাতির অবাধ বিচরণের এলাকায় মানুষের বসতি গড়ে ওঠায় নিরুপায় হয়ে খাবারের সন্ধানে হাতির পাল লোকালয়ে চলে আসছে।

বক্তারা জানান, ১৯৮১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে মোট ২৫টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অবস্থিত চুনতি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য অন্যতম। ৭ হাজার ৭৬৪ হেক্টর আয়তনের এই অভয়ারণ্য সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্য এশীয় হাতির যাতায়াতের করিডোর হিসেবে এই অভয়ারণ্যের গুরুত্বও তুলে ধরেন তাঁরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, নির্বিচারে গাছ কাটা এবং বনভূমিকে কৃষিজমিতে রূপান্তর করাই বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের প্রধান কারণ। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে চুনতি এলাকায় নির্মিত এলিফ্যান্ট ওভারপাস কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও মন্তব্য করেন অনেকে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার সময় অভয়ারণ্য এলাকায় হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলের জন্য ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে যত্রতত্র বন ও গাছ নিধন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন, কক্সবাজার উত্তর বন সংরক্ষক কর্মকর্তা রাশিক আহসান, বন কর্মকর্তা নূরজাহান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী ও ফৌজুল কবির ফজলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লোহাগাড়া উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আনম নোমান, বিএনপি নেতা মো. জাহেদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল মাবুদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম আবু সাইদ চৌধুরী টিটু, বিএনপি নেতা মো. আবুল হাশেম, সমাজকর্মী নুরুল ইসলাম সিকদার, নুরুল আলম ও মো. জাহাঙ্গীর।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বেলার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মুনীরা পারভীন রুবা, মো. ফয়সাল, লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক এম এম আহমদ মনির, অধ্যাপক পুষ্পেন চৌধুরী, সাত্তার সিকদার, তুষার হামিদ কায়সার, রায়হান সিকদার, খোকন সুশীল, মিনহাজ উদ্দীন, শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন, মো. রাশেদ, রূপেন চৌধুরী, মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

ksrm