চান্দগাঁও-কালুরঘাটে বাতাসে বিষ ছড়াচ্ছে চসিকের ঠিকাদার

0

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ফ্লাইওভারের সামনে থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় ধুলো ময়লায় ভরা। পরিবেশ অধিদপ্তর বারবার নির্দেশনা দিলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) এই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস আরটি অ্যান্ড ইবি (জেভি) বেপরোয়াভাবে বায়ু দূষণ করে চলেছে। ওই এলাকায় সড়ক জুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণসামগ্রীও।

গত ১৯ ডিসেম্বর চসিকের আওতায় প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর টি অ্যান্ড ইবিকে (জেভি) পরিবেশ দূষণের দায়ে গুণতে হয়েছিল ১ লাখ টাকা জরিমানা। নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ফ্লাইওভারের সামনে থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়নের নামে ক্রমান্বয়ে বায়ু দূষণের অপরাধে এই জরিমানা করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারী পরিচালক সংযুক্তা দাশ গুপ্তা তখন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেছিলেন, সাসপেনডেড পার্টিকুলার ম্য‌াটার (এসপিএম) এর মানমাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে আলাদা করে মাপার প্রয়োজন পড়েনি।

এই জরিমানার পরও চসিক ঠিকাদারের বোধোদয় হয়নি। কাজ চলার সময়ে বাতাসে ধূলাবালি কম ছড়াতে কমপক্ষে তিনবার পানি ছিটানোর কথা থাকলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষিকা বলেন, ‘রাস্তায় এ পর্যন্ত কোনদিন পানি ছিটাতে দেখিনি। স্কুলেই সারাদিন ধূলোবালি পড়ে থাকে। এই অবস্থায় পাঠদানে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। সারাদিনের ধূলোবালিতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বাচ্চারা।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সকাল থেকেই শ্রেণি পাঠ্ক্রমে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। চসিকের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেবির এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘গত চার বছর ধরে দেখছি সড়কে এই অবস্থা। রাস্তায় যেখানে সেখানে ফেলে রেখেছে নির্মাণসামগ্রী। সবসময় দুর্ঘটনার ভয় হয়। ধুলাবালির সমস্যা তো আছেই।’

কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি নাম গোপন রাখার অনুরোধ করে চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘বোঝেন তো এখন চারপাশে কেমন অবস্থা। নিজের অসুবিধার কথাও বলা নিষেধ।’

প্রসংগত, চান্দগাঁও এলাকায় রয়েছে হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজ, নুরুল ইসলাম পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চাঁন্দগাও পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সানোয়ারা ইসলাম বালক উচ্চ বিদ্যালয়, হামিদিয়া সরকারি প্রাইমারি স্কুলসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সড়ক জুড়ে চসিক ঠিকাদার জেভির এমন অব্যবস্থাপনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মোহরা এলাকার বাসিন্দা আশফাক হোসেন খান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘জরিমানা গুণেও শিক্ষা হয়নি প্রতিষ্ঠানটির। অথচ উনাদের (প্রতিষ্ঠানটির) এমন উদাসীনতায় বাতাসে ধূলোর পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বায়ু দূষণের মাত্রা বিপদসীমা ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। এতে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন নগরবাসীরা। তারা দুষছেন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত সেবা সংস্থাগুলোকে। তবে চট্টগ্রামের উন্নয়ন সংস্থাগুলোর দাবি— ‘উন্নয়ন করতে গেলে একটু ধূলোবালি তো উড়বেই।’

এমন বির্তকের মুখে গেল বছরের ৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত সেবা সংস্থাগুলোর লাগাম টানতে উদ্যোগ নিয়েছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। সেদিন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং চট্টগ্রাম ওয়াসাকে উন্নয়ন পরিচালনায় বেশ কয়েক দফা নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে নির্দেশনা দিয়েছিল পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি।

এসএস/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।