চাকরি হারানোর প্রতিশোধ নিতে মালিককে হত্যার হুমকি, যুবক গ্রেপ্তার

ম্যাসেজ দিয়ে চাওয়া হয় ১৫ লাখ টাকা ‘চাঁদা’

ছয় মাস আগে প্রশাসনিক কারণে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ এলাকার এমএস ট্রেডিং কোম্পানি থেকে চাকরি হারান মেজবাহ উদ্দিন বাবর। সেই চাকরিচ্যুতির প্রতিশোধ নিতে এবার কোম্পানির মালিককে দেন হত্যার হুমকি। তবে ১৫ লাখ টাকা দিলে হত্যা করবেন না বলে আশ্বাস দেন বাবর। যদিও এই চাঁদাবাজকে ধরতে বেশি সময় লাগেনি পুলিশের।

প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগের কয়েক ঘণ্টা পরই বায়েজিদ থানা পুলিশ অভিযুক্ত বাবরকে (৩৭) গ্রেপ্তার করে। একইসঙ্গে যে মুঠোফোন থেকে হুমকি দেওয়া হয় সেটি ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

শনিবার (৮জুন) বায়েজিদ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার বায়েজিদ এলাকার রোমান্টিক মোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বাবরকে।

গ্রেপ্তার বাবর নোয়াখালীর সূবর্ণচর থানার মো.জসিম উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩১ মে এমএস ট্রেডিংয়ের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একটি ক্ষুদেবার্তা আসে অপরিচিত নম্বর থেকে। যেখানে মোস্তাফিজুর রহমানের ফ্যাক্টরির সকল কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, অনেক কষ্ট করে তিনি প্রতিজনের বায়োডাটা বের করেছেন। সুতরাং তাকে ১৫ লাখ টাকা দিলে মোস্তাফিজুর রহমানের কোনো ক্ষতি হবে না। অন্যথায় তাকে কখন কে মারবে সে নিজেও জানবে না। এমনকি তার ড্রাইভারও মারতে পারে। এছাড়া চালাকি করলে পরিণাম অনেক খারাপ হবে বলে লেখা হয় ক্ষুদেবার্তায়।

প্রথম ক্ষুদেবার্তায় জানানো হয়, তিনি ভারত যাচ্ছেন, ৬ জুন আসবেন। তাই ৬ জুন ১টায় ড্রাইভার হালিমকে দিয়ে যেন ১৫ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর ৬ জুন অজ্ঞাত ওই নম্বর থেকে বেশ কয়েকবার ফোন আসলেও রিসিভ ন করায় আবারও ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে টাকার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।

পরে বায়েজিদ থানায় ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ দিলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা জানান, ওই ব্যবসায়ীকে বারবার মুঠোফোনে এসএমএস করে হুমকি দিলে তিনি বিষয়টি আমাদের জানান। এরপর আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে শনাক্ত করি। এরপর তাকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করি।

ওসি আরও জানান, আসামি মেজবাহ উদ্দিন বাবর একসময় বাদির কারখানায় কাজ করতেন। ছয় মাস আগে প্রশাসনিক কারণে তাকে চাকরি থেকে বারখাস্ত করা হয়। সেই জের ধরেই তিনি এমন হুমকি দিয়েছেন এবং চাঁদা চেয়েছেন। চাকরি খুঁইয়ে তিনি প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে উঠেছিলেন। আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিএস/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!