চট্টগ্রামের তিন আসনে এবার একসঙ্গে উঠেছে নতুন প্রজন্মের মুখ। চট্টগ্রাম-৫, ৭ ও ১০ আসনে বিএনপির মনোনীত তিন প্রার্থী এক লাখের বেশি ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনজনের বয়সই ৪০-এর কোঠায়। উত্তর চট্টগ্রামের এই তিন রাজনীতিকই নিজ নিজ পরিবারের বড় ছেলে এবং সবারই উচ্চশিক্ষা দেশের বাইরে।
একই প্রজন্ম, একই সূচনা
এই তিনজনের মধ্যে বয়সে বড় সাঈদ আল নোমান। তার চেয়ে প্রায় তিন বছরের ছোট মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনজনই এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম-৫: বড় ব্যবধানে হেলালের জয়
চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তিনি প্রায় ১ লাখ ভোট বেশি পান। তার বয়স ৪৩ বছর। তার বাবা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ নিয়ে গঠিত এ আসনে তার এই জয় বিএনপির জন্য বড় ব্যবধানে অর্জিত একটি ফল।
চট্টগ্রাম-৭: রাঙ্গুনিয়ায় হুমামের ব্যবধান
চট্টগ্রাম-৭ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তিনি প্রায় ৬০ হাজার ভোট বেশি পান। তার বয়স ৪২ বছর। তার বাবা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। রাঙ্গুনিয়া আসনে এটাই তার প্রথম সংসদ নির্বাচন এবং প্রথম জয়।
চট্টগ্রাম-১০: নগর আসনে সাঈদের লড়াই
চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আল নোমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তিনি প্রায় ৪৫ হাজার ভোট বেশি পান। তার বয়স ৪৬ বছর। তার বাবা আবদুল্লাহ আল নোমান। ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে তিনিও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
বাবাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
তিনজনের বাবাই বিএনপি সরকারের সময় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। আবদুল্লাহ আল নোমান সাবেক সংসদ সদস্য। ১৯৯১ সালে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং ২০০১ সালে খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ছিলেন। খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৭৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম-২, চট্টগ্রাম-৬ ও চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ সম্পর্কিত কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে জাতীয় পার্টির আমলে একবার মন্ত্রীও ছিলেন।
সিপি




