চবি ক্যম্পাসজুড়ে ব্যানার ফেস্টুন, নিষেধাজ্ঞা সীমাবদ্ধ কাগজে কলমেই

0

কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার পোস্টারে লাগিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। প্রথম দেখাতেই মনে হতে পারে এটি কোন নির্বাচনী এলাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশন, সিএনজি স্ট্যান্ড, শাহ জালাল ও শাহ আমানত হলের সামনে, সোহরাওয়ার্দী মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ইতোমধ্যে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন ব্যানার এবং পোস্টারে। এরমধ্যে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পোস্টারের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক ছাত্র সংগঠনের পোস্টারও।

দলীয় পোস্টারে ছেয়ে গেছে চবি ক্যম্পাস
দলীয় পোস্টারে ছেয়ে গেছে চবি ক্যম্পাস

ক্যাম্পাসে শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের মধ্যে আন্তঃকোন্দলে প্রায়ই মারামারি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এসব বগিভিত্তিক সংগঠনগুলো নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মহড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।

যদিও বগিভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পাশাপাশি বগিতে নামে বেনামে চিকামারা, টি-শার্ট, প্ল্যাকার্ড, শ্লোগান বসানো নিষিদ্ধ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়।

ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুমতিক্রমে এই আদেশ জারি করা হলো। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, কর্তৃপক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর বিভিন্ন স্থানে ছাত্র সংগঠনগুলোর চিকা মুছে দেয়ার তৎপরতা দেখা গেলেও পোস্টার অপসারণের ক্ষেত্রে জিরো পয়েন্ট এলাকা ছাড়া অন্য এলাকায় পোস্টার অপসারণে ছিল না কোন উদ্যোগ।

চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল টিপুর অনুসারীরা বগিভিত্তিক গ্রুপ সিএফসি ও সিক্সটি নাইনসহ চবি ছাত্রলীগের নানা গ্রুপ উপ-গ্রুপে ভাগ হয়ে দেয়ালে চিকা, ব্যানার লাগিয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির বক্তব্যে এই বগিভিত্তিক গ্রুপের কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞাকে সাধুবাদ জানালেও বাস্তবে উভয় নেতার অনুসারী তা মানছে না। সম্প্রতি দৃশ্যমান হচ্ছে বগিভিত্তিক সংগঠনের নাম লেখা, চিকার দৃশ্য রয়েছে ক্যাম্পাসে জুড়ে। এই নিয়ে চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে নানা সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

চবি ছাত্রলীগের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা বলেন, চবিতে বগিভিত্তিক গ্রুপ কার্যক্রম, চিকা নিষিদ্ধই যদি করতেই হয় তাহলে স্বয়ং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিজের গ্রুপের মোড়ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক ভাবে ইউনিটকে শক্তিশালী করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দ ও চবি ছাত্রলীগের উপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, কিন্তু বাস্তবে এর কোন কিছুই মানছেন না সয়ং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

বর্তমান আংশিক কমিটির সভাপতি সেক্রেটারি সমর্থিত গ্রুপ সিএফসি ও সিক্সটি নাইনের নানা মহড়া, চিকা, ব্যানার, ফ্যাকাল্টির দেয়াল জুড়ে, ক্যাফেটেরিয়া, ক্লাসরুম, বারান্দা, হলজুড়ে এমনকি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির অংশজুড়েও এসব চিকা শোভা পাচ্ছে। এই নিয়ে অন্যান্য গ্রুপের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজেদেরকে আগে নিজের অবস্থান পরিস্কার করতে হবে, সবর্জনীন হতে হবে। তাহলেই সংস্কার সম্ভব।

অনেকে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে চবি ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগির নানা ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সুফল আলোচনা করে বলেন, ‘শাটলের ঐতিহ্য বিলুপ্ত করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত ।’

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিদ্ধান্তের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন, চিকা, পোস্টার, ব্যানার সাঁটানো, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, লিফলেট বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল টিপু বলেন, চিকামারা, টি-শার্ট, প্ল্যাকার্ড কারা বসিয়েছে আমি জানি না। আমার কাছে এ ধরনের কোন তথ্য নেই। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ব্যানার ফেস্টুন লাগানো নিষেধ। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে যেসব ব্যানার পোস্টার ছিল তা অপসারণ করেছি। তাই অনেকে বিগত বছরগুলোর মত বিশ্ববিদ্যালয় মূল ফটকের বাহিরে ব্যানার লাগিয়েছে।ব্যানার পোস্টার লাগানোর ব্যাপারে সংগঠনগুলোর আরো সচেতন হওয়া উচিত। যত্রতত্র ব্যানার পোস্টার লাগানোর ফলে পুরো এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার জানান, মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন, চিকা, পোস্টার ও ব্যানার লাগানোসহ বিধিনিষেধের বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তা অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা নেবে।

এইচটি/এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন