চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্থাপিত দেশের প্রথম ‘স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং’র (এসজিএসএমআরএস) মাধ্যমে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে। এতে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়ার পাশাপাশি সমুদ্র গবেষণা, মৎস্যসম্পদ অনুসন্ধান এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে ঘটবে।
শনিবার (৯ মে) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই উচ্চপ্রযুক্তির প্রকল্প। চবি’র সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ ও চীনের ‘সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (এসআইও)’ যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করছে। কারিগরি সহায়তা ও যন্ত্রপাতি বাবদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি।
গ্রাউন্ড স্টেশনটিতে ২২৪ টেরাবাইট স্টোরেজ সুবিধা রাখা হয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ স্যাটেলাইট ডেটা সংরক্ষণ করা যাবে। চীনের ১১টি রাডার ও অপটিক্যাল স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করবে এ স্টেশন। এর মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, ক্লোরোফিলের ঘনত্ব, বাতাসের গতি, মেঘের গতিবিধিসহ নানা তথ্য পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
HY-1C/D ও FY-4B স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগেই আরও নির্ভুল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দেওয়া যাবে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে আগাম সতর্কতা বাড়বে এবং প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সহজ হবে।
বর্তমানে বিদেশি সংস্থার তথ্য পেতে যেখানে ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে, সেখানে নতুন এই স্টেশন চালু হলে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই পাওয়া যাবে বঙ্গোপসাগরের তথ্য। ফলে নৌ ও বিমান চলাচলেও বাড়বে নিরাপত্তা।
শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাই নয়, দেশের সুনীল অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখবে এই প্রকল্প। ক্লোরোফিল ম্যাপ বিশ্লেষণ করে গভীর সমুদ্রে মাছের সম্ভাব্য চারণভূমি শনাক্ত করা যাবে। পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও মূল্যবান খনিজ সম্পদের অবস্থান নির্ণয়েও সহায়তা করবে এই প্রযুক্তি।
প্রকল্পটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বলেন, এখন থেকে গবেষণায় নিজেদের তথ্য ব্যবহার করতে পারবো। বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেবা দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল ফোরকান বলেন, এই গ্রাউন্ড স্টেশন দেশের সমুদ্র গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কার্যকর প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়তা করবে।
এএইচ/ডিজে




