চন্দনাইশের ভোটের ফল হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ, ব্যালট সংরক্ষণের আদেশ
বড় জালিয়াতির অভিযোগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ আসন চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–আংশিক সাতকানিয়া) ঘিরে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক। তিনি এলডিপির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের ছেলে।
রিট আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৯ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদ। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কারচুপি এবং কেন্দ্রভিত্তিক নানা অভিযোগ তুলে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন এলডিপি প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক।
প্রাথমিক শুনানিতে আদালত মামলার স্বার্থে নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার, ফলাফলসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এসব সামগ্রী আদালতে উপস্থাপন করা যাবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।
হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন আসনে ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ২০ জনের বেশি প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। আদালত এসব আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণের নির্দেশ দিচ্ছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে করা আবেদন নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চ বর্তমানে এসব আবেদন শুনানি করছেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাজনীতিতে চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–আংশিক সাতকানিয়া) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। সাবেক মন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম এ অঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদের বিজয় ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে এলডিপি ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রিট আবেদন এবং আদালতের নির্দেশনার পর নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের শুনানিতে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফল পুনর্বিবেচনার বিষয়ও সামনে আসতে পারে।




