চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের পর জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিএনপির দাবি, মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় নিজের দায় এড়িয়ে গিয়ে তিনি বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে ‘ন্যাক্কারজনক ও ভিত্তিহীন’ অভিযোগ তুলেছেন। এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা।
মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চট্টগ্রাম-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিলা ফারজানা, এস এম ফজলুল হক ও মো. ইমাম উদ্দিন রিয়াদের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। তাদের জমা দেওয়া প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম-৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, দলীয় মনোনয়নপত্রে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো কাগজপত্রের স্বাক্ষরের মিল না পাওয়ায় ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। স্বাক্ষরের এই গরমিলই ছিল বাতিলের প্রধান কারণ।
বিএনপির প্রতিবাদ
বিএনপি নেতাদের বিবৃতিতে বলা হয়, যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে সুনির্দিষ্টভাবে স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও মনোনয়ন বাতিলের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এর দায় বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চাপান। বিএনপি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এর সঙ্গে ব্যারিস্টার মীর হেলাল কিংবা বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করা হলেও সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার আনিসুল ওই বিক্ষোভকারীদের বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সমর্থক বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর প্রস্তাবক ও সমর্থককে অপহরণের অভিযোগ তোলেন।
বিএনপির দাবি, বাস্তবে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা ও জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একজন জুলাই যোদ্ধা তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে সিএমপি কমিশনার ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদন করেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিক্ষোভ করেন অন্যরা
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় যে বিক্ষোভ হয়, তা করেন জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত যোদ্ধারাই। তাঁদের অভিযোগ, ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ভূমিকা ছিল এবং তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে সংসদ সদস্য পদ দখলের অভিযোগে হাটহাজারীবাসীর মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে হাটহাজারী ও নগরের একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরাতেই ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীদের টার্গেট করছেন। বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের শিকার হলেও ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন কিংবা বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো প্রতিশোধমূলক ঘটনার জন্ম দেননি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, সাবেক সহসভাপতি ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন, এম এ ফায়েজ, হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন ও সদস্য সচিব ওহিদুল আলম ওহিদ, ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল, ৪৪ নম্বর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মামুন আলম, ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল করিম এবং ৪৪ নম্বর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব মো. খোকন।




