চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ৭ বিদ্রোহীর অনলে পুড়বে বিএনপিও

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারী দল আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও বিপরীত চিত্র বিএনপিতে। বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সীমায় ৩২ ও ৩৫ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড এবং ২টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য কেউ আগ্রহ দেখায়নি। এছাড়াও কমপক্ষে ২টি ওয়ার্ডে বিএনপির জনপ্রিয় ২ নেতার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয় দলীয় মনোনয়নপত্র। আবার এই সংকটের মধ্যেও কমপক্ষে ৭টি ওয়ার্ডে রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। যাদের কেউ কেউ বলতে চাইছেন তারা বিদ্রোহী নন, স্বতন্ত্র প্রার্থী।

৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে বর্তমান কাউন্সিলর মো. আজমকে। মো. আজম চান্দগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জানে আলম জিকু। তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবেন বলে জানালেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। তাদের দাবি, প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম, এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে জিকু মাঠে ছিলেন। নির্বাচনেও তিনি মাঠে থাকবেন। তিনি নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে বিএনপি নগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইস্কান্দার মির্জাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও মাঠে আছেন আরেক যুগ্ম সম্পাদক আরইউ চৌধুরী শাহীন। এই ওয়ার্ড থেকে নগর যুবদলের সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তীর হস্তক্ষেপে তিনি ইস্কান্দার মির্জাকে সমর্থন করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া থেকে দূরে থাকেন। আরইউ চৌধুরী শাহীন জানান, তিনি দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। দল হয়তো প্রার্থী পরিবর্তন করে তাকে সমর্থন দিতেও পারে। শাহীন দলত্যাগী ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দুলাল। ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বাদশাহ আলমগীর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় আছেন। তিনি জানান, আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থেকে মামলার শিকার হয়েছি। নির্বাচনের মাঠেও থাকবো। বাদশাহ আলমগীর নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের অনুসারী।

১৪ নম্বর লালখানবাজার ওয়ার্ডে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হালিম (শাহ আলম)। এখানে বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন নগর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম স্বপন। স্বপন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাতের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়ায় বিএনপি প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিনকে। তার কাগজপত্রে ঝামেলা থাকায় পরে প্রার্থী বদল করে নগর যুবদলের প্রচার ও সাহিত্য সম্পাদক আজিজুল হক মাসুমকে মনোনয়ন দেয়। ওই ওয়ার্ড থেকে নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (৩) মোহাম্মদ তৈয়ব দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাতকার এড়িয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তিনি ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরও।
মোহাম্মদ তৈয়ব জানান, ‘গত নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আওয়ামী প্রার্থী। ওই নির্বাচনে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন নির্বাচন করেছিল বিদ্রোহী হিসেবে। দল তো মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাই আমি দলের প্রার্থী কিংবা বিদ্রোহী হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। তৈয়ব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অনুসারী বলে জানা গেছে।’

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহসিন। এই ওয়ার্ড থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি রিয়াদ খান। রিয়াদ খান জানান, শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনের মাঠে থাকবেন। রিয়াদ নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাতের অনুসারী।
২৬ নম্বর উত্তর হালিশহরে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর আবুল হাশেম। তিনি দলের নগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অনুসারী। এই ওয়ার্ড থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন আজিজুর রহমান বাবুল যিনি ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের অনুসারী। তবে এই ওয়ার্ড থেকে ডা. শাহাদাতের অনুসারী মোহসিন আলীও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড থেকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশাহ দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ওই ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী একেএম আরিফুল ইসলাম ডিউক। বাদশাহর অভিযোগ ডিউক ছাত্রলীগ করতেন। তার পিতা বিএনপির হয়ে কাউন্সিলর ছিলেন। পিতার উত্তরসূরী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া দলের ত্যাগীদের জন্য কষ্টের। তাই তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। এমদাদুল হক বাদশাহ ডা. শাহাদাতের অনুসারী।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী নিশ্চিতে কাজ করছে নগর বিএনপি। বিএনপি একটি বড় দল। সেই হিসেবে ব্যালেন্স করা কঠিন বিষয়। আমরা সবার সাথে আলাপ আলোচনা করে মনোনয়ন দিয়েছি। আশা করছি ৮ মার্চের মধ্যে যেসব ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী আছে সেখানে অন্যরা তা প্রত্যাহার করে নেবেন। এরপরও যদি কোন ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী থেকে যায় তাহলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এফএম/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!