সম্প্রতি চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান পদের ‘চলতি দায়িত্ব’ নিয়ে রীতিমতো চলছে তুলকালাম কাণ্ড। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকার পরও একপর্যায়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিজেই নিজেকে ‘চেয়ারম্যান’ ঘোষণা করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে একদফা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়েও নানা নাটক চলছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অভ্যন্তরে। চলছে দৌড়ঝাঁপ। ইতিমধ্যে অনেকে আবেদনও করেছেন শিক্ষাবোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি পাওয়ার জন্য। এর বাইরেও শোনা যাচ্ছে একাধিক নাম। যাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যেই তদবির করছেন বিভিন্ন মহলে। চেয়ারম্যান পদে যারা দৌড়ঝাঁপ করছেন, তাদের মধ্যে অন্তত দুজন শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা। বাকি ক’জন বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, পরিচালক ও অধ্যাপক।
চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন যারা, তাদের মধ্যে রয়েছেন— শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল আলীম, শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মো. জাহেদুল হক, মাউশি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রদীপ চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর স্বপন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মজিবুল হক চৌধুরী, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাইন উদ্দিন, কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল করিম চৌধুরী এবং সরকারি সিটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মোস্তফা কামরুল আকতার।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সর্বশেষ দায়িত্বপালনকারী চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম গত ১৯ নভেম্বর শিক্ষাবোর্ড থেকে বিদায় নিলেও ২১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে (পিআরএল) যান। তিনি অবসরে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান সচিব প্রফেসর আবদুল আলীম।
এদিকে পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের জন্য অনেকেই বিভিন্নভাবে চেষ্টা-তদবির করে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। অনেকেই মন্ত্রী-এমপির ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে বিতর্ক আর সমালোচনার মুখেও পড়ছেন অনেকেই।
চেষ্টা-তদবিরে এর মধ্যে মোটামুটি এগিয়ে আছেন তিনজন। এরা হলেন মাউশির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর স্বপন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মজিবুল হক চৌধুরী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষাবোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘স্বাধীনতা বিসিএস শিক্ষা সংসদের নাম ভাঙিয়ে কেউ কেউ চেয়ারম্যান পদের জন্য এগিয়ে থাকতে পারেন। তবে তা কখনোই ভালো হবে না। কেননা তারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষীয় দাবি করলেও আদতে তারা ভালো মানুষ নন। তারা চেয়ারম্যান হলে বিতর্ক বাড়বে। বোর্ডের কর্মকাণ্ডে অরাজকতা তৈরি হবে।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষাবোর্ডে যোগ্য কেউ আসুক। এমপি-মন্ত্রীর কাছে ধরনা দিয়ে যেন কেউ না আসে। মন্ত্রণালয় যেন বুঝেশুনে যোগ্য একজনকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়। এখানে অযোগ্যদের ভিড়ে সত্যিকার শিক্ষার মৃত্যু ঘটছে।’
এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল আলীম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘কে আসবে তা তো মন্ত্রণালয় জানে। আর মন্ত্রণালয় যখনই প্রয়োজন মনে করবে তখনই নিয়োগ দেবে। সেটা একদিনেও হতে পারে বা ছয়মাসেও হতে পারে। আবার চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দিয়েই কাজ করিয়ে নিতে পারে। সবকিছুই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। ‘
এসআর/সিপি




