চট্টগ্রামে মদ-সিগারেট ঢুকছে বিমানপথে— কিছু ধরা, বেশিরভাগই অধরা

0

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশি মদ ও সিগারেট দেশে ঢুকছে অনেকটা নিরাপদেই। পাচারকারীরা নিশ্চিন্তেই বিমানবন্দরকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রতি সপ্তাহে কিছু মদ-সিগারেট আটক হলেও এর বড় অংশটি পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে পাচার হয়ে আসা মদগুলো বেশিরভাগ দুবাই ও ভারত থেকে আসে। ভারতীয় মদের মধ্যে রয়েছে রাম, ভদকা, ব্লেনডেট, রেড ব্লেনডেট, হুইস্কি রেড লেভেল। এগুলো ভারত থেকে আসা যাত্রীরা নিয়ে আসেন। আবার দুবাই থেকে আসে পিভাস রেগাল, রেডিনেন্ট ফ্রেন্ড, হানকি বি হুইস্কি, রেড লেভেল হুইস্কি, রেড লেভেল জুহেননি। এছাড়া বিয়ার, ওয়াইন, হুইস্কিও আনেন যাত্রীরা।

সিগারেট আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, দুবাই, ওমান ও বাহরাইন থেকে। এসব দেশ থেকে আসা বেশিরভাগই বেনসন সিগারেট।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে আসা সিগারেট-মদ সোজা চলে যায় চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে। এসব অবৈধ পণ্য অতি সতর্কতা ও গোপনে কেনাবেচনা চলে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের কাস্টমস ও এয়ারফ্রেইট বিভাগের তথ্য অনুসারে, গত বছরের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত এক হাজার ৯৭২ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। সিগারেট উদ্ধার হয়েছে ৮ হাজার ৪৯০ কার্টন।
অন্যদিকে ২০১৯-২০ অর্থ-বছরের জুলাই মাসে ৩১ বোতল মদ ও ২৭৫ কার্টন সিগারেট, আগস্টে ৫৮ বোতল মদ ও ৫৫৫ কার্টন সিগারেট ও সেপ্টেম্বরে ৪২ বোতল মদ ও ১৯৩৬ কার্টন সিগারেট উদ্ধার হয়েছে।

১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা থেকে আসা ফ্লাই দুবাইয়ের জি ৯-৫২১ নম্বর ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ২৯৪ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সিগারেটের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা।

২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশে বিমানের বিজি ১৪৮ ফ্লাইটের যাত্রী রবিউল আলমের কাছ থেকে বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট এবং যৌন উত্তেজক স্প্রে উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এয়ারপোর্ট ও এয়ারফ্রেইট শাখার সহকারী কমিশনার আমিনুল ইসলাম জানান, দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি ১৪৮ ফ্লাইটের যাত্রী রবিউল আলমের ৩টি লাগেজ সন্দেহ হওয়ায় স্ক্যানিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ওই লাগেজগুলো থেকে ২২০ কার্টন ইজিমন্ডসহ ৩০৩ ব্রান্ডের সিগারেট জব্দ করা হয়। এসব কার্টনের ৪৪ হাজার শলাকা সিগারেট রয়েছে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এসব সিগারেটের মোট মূল্যের ২০০ শতাংশ রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছিল ওই যাত্রী। এছাড়া ওই লাগেজ থেকে জার্মানির তৈরি ৫০ পিস ভায়াগ্রা জাতীয় যৌন উত্তেজক স্প্রে (সুপারভিগা ৪৫ এমএল) জব্দ করা হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি আলাদা ফ্লাইট থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের ৭১টি মোবাইল সেট ও ৮০ কার্টন সিগারেট জব্দ করেছে কাস্টমস কর্মকর্তারা।

২৮ আগস্ট সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি ১৪৮ ফ্লাইট থেকে ফের ৮১৪ কার্টন সিগারেট আটক করেছে কাস্টমস কর্মকর্তারা। ওই ফ্লাইটের ৩ যাত্রীকেও আটক করা হয়। দুবাই থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর কাস্টমস কর্মকর্তারা ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়ে চালানটি। ওই চালানে ইজি ব্রান্ডের ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ শলাকা সিগারেট ছিল। ওই সিগারেটের বাজার মূল্য ১২ লাখ টাকা। আটক যাত্রীরা হলেন আবদুল কাদের, মো. ইয়াছিন ও আসাদুজ্জামান। তাদের তিনজনের বাড়িই চট্টগ্রামে।

সিগারেট আমদানি নিয়ন্ত্রিত। একজন যাত্রী ২০০ শলাকা সিগারেট শুল্ক ছাড়া নিয়ে আসতে পারে। এর চেয়ে বেশি সিগারেট আনতে হলে ৮০০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। ওই চালানে প্রায় ৯৬ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিমানের ওই যাত্রীরা।

২৬ আগস্ট সকালে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি ১৪৮ ফ্লাইট থেকে ৫৪৭ কার্টন ইজি, মন্ড ও ৩০৩ ব্রান্ডের সিগারেট উদ্ধার হয়। কাস্টমস সূত্র জানায়, দুবাই থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণের পর যাত্রীরা কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সারছিল। প্রতিটি ব্যাগেজ স্ক্যানিং করা হচ্ছে দেখে ধরা পড়ার ভয়ে ব্যাগ রেখে সটকে পড়ে ওই চালানের মালিক। পরবর্তীতে ব্যাগেজ খুলে কাস্টমস কর্মকর্তারা দেখতে পান সেখানে রয়েছে ৫৪৭ কার্টন সিগারেট। ওই কার্টনগুলোতে ১ লাখ ৯ হাজার ৪০০ শলাকা সিগারেট ছিল। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৮ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরের ম্যানেজার সরওয়ার ই জামান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাত্রীদের কাছ থেকে সব সময় বিভিন্ন অবৈধ মালামাল উদ্ধার হয়। আমরা আটক করলেও তা আমরা কাস্টমসকে বুঝিয়ে দিই। পরবর্তী ব্যবস্থা কাস্টমস নেয়। তবে অবৈধ মালামাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশন খুব সর্তক রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এয়ারপোর্ট ও এয়ারফ্রেইট শাখার উপ-কমিশনার রেয়াদুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানতে বেশ কিছু মদ ও সিগারেট জব্দ হয়েছে। অনেক সময় সিগারেটগুলো যথাযথ শুল্ক দিয়ে নিয়ে যায়। অনেক সময় নেয় না। তা পরবর্তীতে নিলামে চলে যায়। কিন্তু মদগুলো ধ্বংস করা হয়।

এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন