চট্টগ্রাম রেলে ঋণের ৬ লাখ টাকা মেরে খাওয়ার ফন্দি এক নারীর, দু’মাসেও আলো দেখেনি তদন্ত প্রতিবেদন

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে এবার ‘রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি’ নামের কর্মচারীদের এক প্রতিষ্ঠান থেকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ওই নারীর আবেদন করা ফরমে নিজেকে রেলের কর্মচারী পরিচয় দিলেও আদতে সেই পরিচয় ছিল ভুয়া। আর এই আবেদন ফরমে তথ্য যাচাই করে ঋণ দিতে সুপারিশ করেন রেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

কিন্তু পরে তিনি সেই সুপারিশ তার দেওয়া নয় দাবি করে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি সুপারিশ দেন, যেটিতে লেখা ছিল আবেদনটি ভুয়া। এ ঘটনার দু’মাস পার হলেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিতে পারেনি।

এর আগে গত ডিসেম্বরে রেলের কোটি টাকার একটি ঠিকাদারি বিল ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ফের আরেকটি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়।

তবে রেলের বেশ কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, প্রথমে ওই নারীর ভুয়া কাগজপত্রগুলো ঠিক আছে জানিয়ে সুপারিশ করেন রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কিন্তু পরে অবস্থা বেগতিক দেখে দ্বিতীয় দফায় ওই নারীর কাগজপত্র ভুয়া জানিয়ে চিঠি দেন তিনি।

বুধবার (১৪ মে) সমিতির অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবেদন ফরমে ওই নারীর নাম লিখেছেন কামরুন্নেছা। বাবার নাম ইসহাক। পদবি দেন ওয়েম্যান, গ্যাং নম্বর ০৭, জিপিএফ নস্বর (১৮১৩১০) বিভাগীয় প্রকৌশলী (১)। কিন্তু ওই নারী রেলের কোনো কর্মচারীই নন।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতিতে ৬ লাখ টাকা ঋণ নিতে প্রথম আবেদন করেন কামরুন্নেছা। সমিতির পক্ষ থেকে তথ্য যাচাইয়ের জন্য পাহাড়তলী বিভাগীয় (১) সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেনের কাছে পাঠানো হয়। তিনি ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর চিঠি দিয়ে সমিতিকে জানান, ওই নারীর তথ্য সঠিক। কিন্তু ঘটনাক্রমে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঋণদান গঠনকে কেন্দ্র করে মারামারি ঘটনা ঘটে। ফলে ২২ ফেব্রুয়ারি ২য় চিঠিতে ফারুক হোসেন জানান, ঋণ আবেনকারীর তথ্য ভুয়া উল্লেখ করেন।

এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু দু’মাসেও আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত প্রতিবেদন।

রেলের একাধিক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেলে টাকা আত্মসাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত। তাদের মদদ দেয় রেলের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। যদি টাকা আত্মসাৎ করতে পারে তাহলে তা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। আর না পারলে একে অন্যের ওপর দোষ চাপায়।

ঋণ আবেদনকারীর প্রথম আবেদন সঠিক এবং পরে কেন ভুয়া বলেছেন, এমন প্রশ্ন করলে উত্তজিত হয়ে যান বিভাগীয় প্রকৌশলী (১) সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, প্রথম চিঠি আমার দেওয়া না। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে পারবো না।

রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি চট্টগ্রামের সচিব শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঋণ আবেদনকারী নারীর তথ্য ভুয়া। প্রথম চিঠিতে তথ্য সঠিক এবং ২য় চিঠিতে ভুয়া উল্লেখ করেন ফারুক হোসেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি তদন্ত করছে।

তিনি বলেন, ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের অনেকে বেতনের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকার ৫ মিনিটের মধ্যেই উত্তোলন করে ফেলে। ফলে ঋণ টাকা কেটে নেওয়া যায় না।

সমিতির বোর্ড পরিচালক অতিরিক্ত সিওপিএস জাকির হোসেন জানান, ঋণের আবেদন করা নারী ভুয়া।’

তদন্ত প্রতিবেদন দু’মাসে কেন দেওয়া হলো না, জানতে চাইলে তিনি সমিতির চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতির চেয়ারম্যান রেক্টর আহমেদ মাহবুব চৌধুরীকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!