চট্টগ্রাম রেলের স্টেশন মাস্টারকে সকালে কক্সবাজার পাঠিয়ে বিকালে ফেরত

ভুলে পদায়ন, দাবি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার

নবনির্মিত কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে মাস্টার হিসেবে সকালে পদায়নের পর বিকেলে ফেরত আনা হলো এক রেলকর্মীকে৷ কন্ট্রোল অর্ডারের মাধ্যমে তাকে আবারও চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, তাকে ভুলে পদায়ন করা হয়েছে।

ওই রেলকর্মীর নাম মো. শফিকুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-কক্সবাজার রেললাইন উদ্বোধন করবেন। এজন্য কক্সবাজার রেল স্টেশনে মাস্টার হিসেবে মো. শফিকুল ইসলামকে পদায়ন করা হয়। ৪ নভেম্বর সকালে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে মাস্টার পদে যোগদান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিও দেন তিনি। তবে বিকালেই আবারও চট্টগ্রামে ফেরত আসতে হয়েছে তাকে।

আরও জানা গেছে, নানান অনিয়মে জড়িত মো. শফিককুল ইসলামকে কক্সবাজারের মত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে মাস্টার হিসেবে পদায়নের পর রেলওয়ে শ্রমিক লীগসহ নানা মহলে সমালোচনার ঝড় উঠে। এনিয়ে রেলওয়ে শ্রমিক লীগ মহাপরিচালক ও পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন সংগঠনের নেতারা। ফলে শফিকুল ইসলামকে তড়িঘড়ি করে কন্ট্রোল অর্ডারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে ফেরত আনা হয়।

এদিকে ১৯ বছর ধরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পড়ে আছেন স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-৩) মো. শফিকুল ইসলাম। এর মধ্যে তার বদলির সুপারিশ হলেও ক্ষমতার দাপটে রয়ে গেছেন এক জায়গায়।

এর আগে ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে সহকারী স্টেশন মাস্টার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন মো. শফিকুল ইসলাম। এরপর টানা চাকরি করে যাচ্ছেন চট্টগ্রামে। এরমধ্যে ২০১০ সালে মিরসরাইয়ে একবার বদলি হলেও সেই স্টেশন বন্ধ থাকায় গ্রেড বাড়িয়ে তাকে আবারও চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে রাখা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিএনপি জামাত রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। এগুলো সব গুজব। যারা এই পদ পায়নি তারা গুজব ছড়িয়েছেন। আমি কি করি না করি সব গোয়েন্দা সংস্থা ও আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন৷ আমি অফিসে নিয়ম মেনে আবার চট্টগ্রামে যোগ দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন এমন স্টেশনে কাউকে পদায়নে আমরা প্রথমে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখি। এছাড়া কর্মদক্ষতার বিষয়ও রয়েছে। মো. শফিকুল ইসলামকে হয়তো ভুলে পদায়ন করার পর তা আবার সংশোধন করে চট্টগ্রামে ফেরত আনা হয়েছে।’

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!