চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে চেকিং ঢিমেতালে, ‘ম্যানেজ’ করে যাত্রী যাচ্ছে টিকিট ছাড়া

কর্মচারীরা একজোট, ঝিমিয়ে ৩ টাস্কফোর্স

এই বছরের মার্চে কালোবাজারি রোধে ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ নীতি চালু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কয়েক মাস ঠিকঠাক ছিল এই নীতি। ট্রেনে টিকিট-এনআইডি চেক, জরিমানাও করা হয়েছিল তখন৷ কিন্তু সম্প্রতি চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ট্রেন প্লাটফর্মে আসার পর বের হওয়ার গেটে যাত্রীর কাছ থেকে ভালোভাবে টিকিট চেক করছেন না টিকিট কালেক্টর (টিসি)।

এছাড়া ট্রেনের টিকিট এক্সামিনার (টিটিই) ভালোভাবে যাত্রীদের টিকিট চেক করেন না। ট্রেনের কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধ যাত্রীও তোলে বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আর এতে করে রেলে অসাধু কর্মচারীদের ছত্রছায়ায় কমেনি কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য।

তবে রেল কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রেনে চেকিং ঠিকই হয়। তবে জনবল সংকটের কারণে হয়তো তা কম হয়।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন রুটে ৯টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। টিকিট কালোবাজারি রোধে অনবোর্ড টিকিট চেক করার জন্য ৩টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। অন্যদিকে টিকিট চেকিংয়ে গতি আনার জন্য মার্চ মাসের শুরুতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ২৪টি পস মেশিন দেওয়া হয়। তবে কয়েকদিন না যেতেই মেশিনগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে টিকিট চেকিং কমে যায়।

এদিকে টিকিট চেকিং কমে যাওয়ায় ট্রেনে অবৈধ যাত্রী বেড়েছে। অনেক সময় কালোবাজারিদের কাছ থেকে বাড়তি টাকায় টিকিট কিনতে হয় যাত্রীদের।

আন্তঃনগর ট্রেনে ভ্রমণকারী একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের টিকিট চেক করতে কেউ আসেনি। আবার কয়েকজনের চেক করলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।

আরও জানা গেছে, প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে ১-৩ জন টিটিই থাকেন। তাদের যাত্রীর টিকিট চেক করার কথা থাকলেও এটেনডেন্সদের সঙ্গে যোগসাজশ থাকায় গুরুত্ব দিয়ে চেক করেন না। ফলে প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে (সোনার বাংলা ও সুবর্ণ ছাড়া) অবৈধ যাত্রী যাতায়াত বেড়েছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনসহ কুমিরা, ফেনী গুণবতী, কুমিল্লা হাসানপুর, নাঙ্গলকোট, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রচুর পরিমাণ অবৈধ যাত্রী ওঠে। এর মধ্যে বেশি ওঠে লাকসাম ও কুমিল্লা থেকে। এসব ট্রেনের মধ্যে বিজয় এক্সপ্রেস (চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ), উদয়ন (চট্টগ্রাম-সিলেট), পাহাড়িকা (চট্টগ্রাম-সিলেট), মহানগর (চট্টগ্রাম-ঢাকা) ট্রেনে অবৈধ যাত্রী বেশি ওঠে। এছাড়া ট্রেনের খাবার বগি, পাওয়ার কারে চুক্তি করে অবৈধ যাত্রী যাতায়াত করে থাকে।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে ঢাকা থেকে তূর্ণা নিশীথা চট্টগ্রামে আসে। এই সময় প্লাটফর্ম থেকে যাত্রী বের হওয়ার ফটকে কোনো টিসি ছিলেন না। পরদিন শনিবার সকালে সাড়ে ৯ টার দিকে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামে আসা ট্রেনের যাত্রীদের বেলায়ও টিকিট চেক করার জন্য কোনো টিসি ছিলেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ে পুলিশ, টিটিই, গার্ড, ক্লিনার, এটেন্ডেন্সসহ অন্যান্যদের সঙ্গে টিসিদের ‘অলিখিত’ চুক্তি হয়ে থাকে। ট্রেন থেকে নেমে প্লাটফর্ম থেকে স্টেশন গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় যিনি অবৈধ যাত্রী তুলেছেন নাম বললে বা ফোনে ধরিয়ে দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তারেক মো. ইমরান বলেন, ‘বিনা টিকিট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যাত্রীর তথ্যের যদি মিল না থাকে, তাহলে দুটোই অবৈধ। আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ যাত্রীদের জরিমানা করছি। তবে জনবল সংকটের কারণে সব ট্রেনে টিকিট চেক করা সম্ভব হয় না। নিয়মিত অভিযান চালালেও প্রচারণার অভাবে তা আপনাদের কাছে পৌঁছে না।’

চট্টগ্রামে রেল স্টেশন মাস্টার মো. জাফর আলম বলেন, ‘টিকিট কাটার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। ট্রেনে টিকিট চেকিং হয়। অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট কেটে ভ্রমণের দায়ে জরিমানাও করা হয়। তবে হয়তো লোকবল সংকটের কারণে চেকিং একটু কম হতে পারে।’

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!