চট্টগ্রাম মোহামেডান ঢাকা মোহামেডানের অধীনে নয়, কমিটি দেওয়া বেআইনি
এডহক কমিটির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কমিটি গঠনের এখতিয়ার রাখে না ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব একটি স্বতন্ত্র ক্লাব, যা তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরিচালিত হয়। এই ক্লাব কারও শাখা বা অধীনস্থ নয়। ঢাকা মোহামেডান কিংবা অন্য কোনো সংগঠন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা সহযোগিতা—কোনোটাই করেনি, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবও তার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। কিন্তু হঠাৎ করে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের একটি এডহক কমিটি গঠন করে দিয়েছে, যা চট্টগ্রাম সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এখতিয়ার বহির্ভূত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গভর্নিং বডির মহাসচিব শওকত আজম খাজা। বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দীপ্তি এবং সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রাম মোহামেডানের হারানো গৌরব ফেরাতে ভূমি ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন তরুণদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। কিন্তু হঠাৎ ঢাকা মোহামেডানের এ ধরনের কমিটি গঠন খোদ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করার শামিল।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন দীপ্তি জানান, একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র্র ক্লাবের একটি বৈধ কমিটির বিপরীতে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের একটি এডহক কমিটি প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অনৈতিক। যারা এ ধরনের গর্হিত কাজ করেছেন, তারা অন্তত আলোচনা করতে পারতেন। যাকে সভাপতি করা হয়েছে রাজনৈতিকভাবে আমরা একই আদর্শের এবং আমরা তার সহকর্মী। তিনি আমাদেরকে তার প্রত্যাশার কথা জানাতে পারতেন। আমরা তার সাথে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌছানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। আর তাতে একজন রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে আমরা নিজেরাও বিব্রত। তবে এখনও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
দীপ্তি আরও জানান, ঢাকা মোহামেডান যাকে চট্টগ্রাম মোহামেডানের সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন তিনি এক-এগারোর কুশীলব, বর্তমানে কারাবন্দি জেনারেল মাসুদ উদ্দিনের দোসর। যে মাসুদ উদ্দিনের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তেমনই একজন ঘৃনীত এবং চিহ্নিত দোসরকে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে ক্লাবটির লাখ লাখ সমর্থক মেনে নেবে না কোনোদিন।
ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম জানান, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মতো একটি গৌরবময় প্রতিষ্ঠানের ওপর একটি অবৈধ কমিটি চাপিয়ে দেওয়া শুধু গর্হিত কাজই নয়, বরং অবিচার বটে। ঢাকা মোহামেডান কোনোকালেই চট্টগ্রাম মোহামেডানের কোনো কাজে সহযোগিতা বা হস্তক্ষেপ কোনটি করেনি বা করার এখতিয়ারও রাখে না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক বিগত ৭৫ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেই চলবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সহ-সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান, কোষাধ্যক্ষ ইয়াছিন আরাফাত পাবলু, আবু বকর ছিদ্দিক, মাসুদুর রহমান মাসুদ, নেয়ামত উল্লাহ তৌহিদ, ফজলুল হক সুমন, দিদার হোসেন, দিদারুল আলম জাবেদ, অ্যাডভোকেট ওমর চৌধুরী, সমর্থক গোষ্ঠী সভাপতি শিবলী নোমান সিফাত, সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার খান, মো. বেলাল, শওকত খান রাজু, মিয়া হারুন, শেখ আলম রাজু, নুর খান, সাগির আলম, আনোয়ার হোসেন, গোলাম ইয়াজদী, শওকত আলী।




