চট্টগ্রাম মেডিকেলে নবজাতককে ইনজেকশন দেয় আয়া-ঝাড়ুদার

দুদকে অভিযোগের পর টনক নড়ল কর্তৃপক্ষের

0

ক্যাসাই অংয়ের ২৩ দিন বয়সী নবজাতক চিকিৎসাধীন আছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। ২২ দিন আগে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে শিশুটি জন্ম নিলেও কান্না না করায় সেখানকার ডাক্তার চট্টগ্রাম মেডিকেলের নিউনেটাল বা নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করাতে বলেন। সেখান থেকে মেডিকেলে আনার পথে বাচ্চা কিছুটা কান্না করে। তারপর বাচ্চাটিকে ৩২ নম্বর নবজাতক ওয়ার্ডে আনলে ইনজেকশন দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

কিন্তু নার্স ইনজেকশন দিতে গিয়ে বাচ্চার রগ পাচ্ছিলেন না। মাঝে মাঝে নার্সদের পরিবর্তে আয়া ও ঝাড়ুদার দিয়ে কাজ করানো হয়। এদিকে বাচ্চার রগ না পেয়ে কয়েকবার চেষ্টা করায় ওই জায়গায় ঘা হয়। পর সেটি ক্ষত হয়ে যায়। ডাক্তারদের বাচ্চার ক্ষত নিয়ে জিজ্ঞেস করলে জানায়, এটি কোনো গুরুতর বিষয় না। এদিকে বাচ্চার জন্ডিস ধরা পড়েছে। ডাক্তার একগাদা টেস্ট দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ওষুধ ও টেস্ট করাতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।

নিজের এসব করুণ কাহিনী লিখে চট্টগ্রাম মেডিকেলে রাখা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগ বক্সে ফেলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা ক্যাসাই অং।

বুধবার (৩ আগস্ট) দুদকের গনশুনানিতে ডাকা হয় পেশায় ইলেক্ট্রিসিয়ান ক্যাসাই অংকে। সেখান তিনি অভিযোগটি তুলে ধরলে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. মোজাম্মেল হক খান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এর উত্তর চান। জবাবে হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. অং সুই প্রু মারমা শিশুটি দেখভালের দায়িত্ব ওই ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধানকে দেওয়ার কথা বলেন।

ক্যাসাই অংসহ পাঁচজন অভিযোগ দেন চট্টগ্রাম মেডিকেলের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে বাসিন্দা কামরুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন নার্স, ওয়ার্ড বয়, লিফট অপারেটরদের দুর্ব্যবহার ও অনিয়ম নিয়ে।

Yakub Group

পাঁচলাইশের বাসিন্দা মো. নূর হোসেন অভিযোগ করেন, হাসপাতালের সার্জারি ও গাইনি বিভাগের ২০২১-২২ অর্থবছরে চারটি ইলোক্ট্রো সার্জিক্যাল ইউনিট লেজার ফিউশনমেশিন (মডেল নম্বর-এফটি১০) তামাম করপোরেশনের মাধ্যমে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা দিয়ে কেনার বিষয়ে। অথচ একই মেশিনের জন্য আগের অর্থ বছরে অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সানি ট্রেডিং এজেন্সি ২৮ লাখ টাকার দরপত্র জমা দিলেও তাকে কাজ দেওয়া হয়নি। এক অর্থবছর পর তিন গুণ বেশি দামে সেটি ক্রয় দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তোলেন তিনি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেলের উপ-পরিচালক ডা. অং সুই প্রু মারমা বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেলের টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়। এছাড়া হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়, লিফটম্যান, নার্স, আয়াদের দুর্ব্যবহার নিয়ে আমরা একাধিকবার মিটিং করেছি। বর্তমানে হাসপাতালে সহকারী পরিচালকদের প্রধান করে ভিজিল্যান্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সবসময় সুপারভিশনে থাকবেন। ওয়ার্ডের সার্বিক অনিয়ম হচ্ছে কি-না সেটি জানালে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ওই নবজাতক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাচ্চাটির চিকিৎসার দেখভাল ও সুপারভিশনে করতে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. রেজাউল করিমকে বলা হয়েছে।’

আইএমই/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm