চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের যাত্রা শুরু

১১ স্যাটেলাইট থেকে ১৫ মিনিটেই মিলবে তথ্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) যাত্রা শুরু করেছে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন। বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভর না করে ১১টি স্যাটেলাইট থেকে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটেই বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে। সমুদ্র গবেষণা, দুর্যোগ পূর্বাভাস, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে লক্ষে ক্যাম্পাসে স্থাপিত ‘স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং (এসজিএসএমআরএস)’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের যাত্রা শুরু 1

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত ‘স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং (এসজিএসএমআরএস)’ উদ্বোধন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ সব ধরনের অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে। সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মাছ আহরণ, নৌপরিবহন এবং উপকূলীয় উন্নয়নে এ স্যাটেলাইট স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, জেলে, ট্রলার মালিক ও সমুদ্রগামী জাহাজগুলো আবহাওয়া এবং সমুদ্রসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে ঝুঁকি কমাতে এবং কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবে।

প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (এসআইও)। ২০১৯ সালে প্রকল্পের যাত্রা শুরু হলেও করোনা মহামারির কারণে কাজ বিলম্বিত হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়ে বর্তমানে কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে ডেটা সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপিত হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকরাও সমুদ্র ও মৎস্যসম্পদ বিষয়ে রিয়েল-টাইম তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রাউন্ড স্টেশনটি এক্স ও এল-ব্যান্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের বিভিন্ন সমুদ্র ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, ক্লোরোফিলের ঘনত্ব, বাতাসের বেগ, মেঘের গতিবিধি, উপকূলীয় ক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন সূচক পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প সমন্বয়ক ও ডাটা সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বলেন, এই কেন্দ্র দেশের গবেষকদের স্যাটেলাইট ডেটা হ্যান্ডলিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও বিগ ডেটা বিশ্লেষণে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে। ভবিষ্যতে একটি ওপেন ডেটা পোর্টাল, সমুদ্রে বয়া স্থাপন এবং এআইভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শেওপেং, চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. ফু বিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/ডিজে

ksrm