চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য আল-ফোরকান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হচ্ছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ২০০৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

ড. আল-ফোরকান যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিকা ধানের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক গবেষণার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে তেলবীজের গুণগত মান উন্নয়ন নিয়ে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য তিনি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)-এর বৃত্তি লাভ করেন।

২০০৪ সালে তাঁর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর উদ্যোগে বিভাগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফাংশনাল জেনোমিক্স অ্যান্ড প্রোটিওমিক্স ল্যাবরেটরি (এফজিপিএল) এবং স্বয়ংক্রিয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস। এই ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ সিকোয়েন্সার, আরটি-পিসিআর, জিন পালসারসহ অত্যাধুনিক গবেষণা যন্ত্রপাতি রয়েছে। ফলে উদ্ভিদ টিস্যু কালচার ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রোটিওমিক্স, জেনোমিক ও ট্রান্সক্রিপ্টোমিক বিশ্লেষণ, মানব ও অন্যান্য রোগের গবেষণা, মাইক্রোবায়োলজি এবং বায়োইনফরমেটিক্সসহ জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

৩১ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণা জীবনে ড. আল-ফোরকানের প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫১টি। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন। গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তিনি ৩৯ জন এমএস শিক্ষার্থীর থিসিস, সাতজন এম ফিল গবেষক এবং একজন পোস্টডক্টরাল গবেষকের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম ছাড়াও ঢাকা-রাজশাহী–চট্টগ্রাম–জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হচ্ছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হচ্ছেন অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়টির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রইস উদ্দিন। এ ছাড়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলামকে সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মো. মাসউদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

ksrm