চট্টগ্রাম বিমানববন্দরে ২০ বছরে মালিকবিহীন ৮০০ ব্যাগ

0

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানববন্দরে গত ২০ বছরে যাত্রীরা ফেলে গেছে অন্তত ৮০০ ব্যাগ। প্রবাস থেকে নিয়ে আসা বিভিন্ন পণ্য ফেলে গেলেও নানা ঝক্কি ঝামেলায় সেসব পণ্য আর নিয়ে যায়নি তারা। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রসাধনী সামগ্রী, খাবার, খেজুর, গুড়ো দুধ, চকলেট, কাপড়সহ আরও বিভিন্ন দ্রব্য।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে কাস্টমস কার্যালয়ের পাশের একটি কক্ষে জমে থাকা এসব পণ্য পঁচে গলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এভাবে বছরের পর বছর পণ্য জমে থাকলেও ব্যাগভর্তি পণ্যগুলো অপসারণে নেওয়া হয়নি কোন উদ্যোগ।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের এয়ারপোর্ট এন্ড এয়ারফ্রেইট ইউনিটকে আরো কার্যকর করতে গিয়ে নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে জমে থাকা এসব পণ্য সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এসব পণ্য নিলাম কিংবা ধ্বংস করতে গঠিত হয়েছে চারটি ইনভেন্ট্রি কমিটি। একজন রাজস্ব কর্মকর্তাকে প্রধান করে চারজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ ৫ সদস্যের ৪ টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম এরই মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যাগগুলোর ইনভেন্ট্রি করেছে।

যেসব পণ্য বিক্রয়যোগ্য সেগুলো নিলামে তুলতে এবং নষ্ট পণ্য ধ্বংস করার লক্ষ্যে ব্যাগের পণ্যগুলো কাস্টমসের নিলাম শাখাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় কাস্টমস সূত্র।

সূত্র জানায়, অনেক সময় প্রবাস থেকে আসা যাত্রীরা আসার আগে বা পরে ব্যাগেজ আসে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঝামেলার কারণে আগে বা পরে আসা ব্যাগেজগুলো আর যাত্রীরা নিতে আসে না। পণ্যের মালিকরা পণ্য না নিয়ে গেলে সেগুলো চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে কাস্টমসের কার্যালয়ের একটি কক্ষে রাখা হয়। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু হওয়ার পর ২০ বছর ধরে জমতে থাকা অন্তত ৮০০ ব্যাগ ওই কক্ষেই জমতে থাকে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার নাহিদ নওশাদ মুকুল বলেন, অনেক সময় যাত্রীরা আগে চলে আসলেও ব্যাগেজ আসে পরে। অনেক যাত্রী দূরত্বের কারণে কিংবা অন্য যে কোন কারণে পণ্যগুলো আর নিতে আসে না। এভাবে গত ২০ বছরে জমেছে অন্তত ৮০০ ব্যাগ পণ্য।

তিনি বলেন, জমে থাকা অনেক পণ্য মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ব্যবহার কিংবা খাবার অনুপযোগী হয়ে গেছে। সেগুলো কাস্টমসের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধ্বংস করা হবে। যেসব পণ্য ব্যবহার উপযোগী সেগুলো নিলামে বিক্রি করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় হবে।

এসসি/এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন