ঘুষ ও হয়রানির সরাসরি ৫২ অভিযোগ চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে

0

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার এলাকার সিএন্ডএফ এজেন্ট কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কাস্টম ক্লিয়ারেন্সের ডকুমেন্ট ঠিক থাকলেও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বন্দরের ১ থেকে ৪ নম্বর গেইটে সার্জেন্ট, এএসআইরা মালামাল চেকিং করার নামে অর্থ আদায় করে। আছে টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করার অভিযোগও।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

বন্দর কর্তৃপক্ষের শহীদ মো. ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের বিরুদ্ধে অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাত, বন্দরের গেট থেকে চেকিংয়ের নামে হয়রানি, কনটেইনার গায়েব, আনলোড করতে ঘুষ, কেরেং অপারেটরের ঘুষ দাবি, মেরিন ড্রাইভে ও জেটিতে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনসহ ৫২টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।

শুনানিতে নিজাম নামের এক সিএন্ডএফ এজেন্ট অভিযোগ করে বলেন, বন্দরে এক নম্বর গেট পোর্ট হেলথ কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম ও শাহজাহান গত ২০ বছর ধরে একই জায়গায় কর্মরত থাকার কারণে তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করে সিএন্ডএফ এজেন্টদের অযথা হয়রানি করেন।

মৌলভী বাজার এলাকার হেলাল হোসেন নামে আরেক সিএন্ডএফ এজেন্ট অভিযোগ করে বলেন, ‘জাহাজ থেকে কনটেইনার প্ল্যান্টে আসার পর মেইন জেটিতে কনটেইনার লোকেশন তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাড়তি টাকা দিতে হয়। এতে টাকা দিলে সহজে লোকেশন পাওয়া যায়। অন্যথায় হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়া কনটেইনার ডেলিভারির সময় ও কিপ ডাউন করার সময়ে বাড়তি বকশিস না দিলে কেরেং অপরারেটররা কিপ ডাউন নিয়ে কালক্ষেপণ করেন।’

এছাড়া সেলিম নামের আরেক সিএন্ডএফ এজেন্ট অভিযোগ করেন, ‘বন্দরের ভেতরে এক ইয়ার্ডের স্লট দিয়ে অন্য ইয়ার্ডে কনটেইনার রেখে দেয়। এ সময় পুনরায় ইয়ার্ডের নতুন অনুমোদন নিতে ট্রলির পারমিশন নিতে হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন হয় সাইফ পাওয়ারেরও অনুমোদনও। এতে প্রচুর অতিরিক্ত খরচ পড়ে। শুধু তাই নয়, পদে পদে হয়রানি তো আছেই।’

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে— টার্মিনাল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মালামাল ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে পণ্য খালাসের আদেশ থাকলেও খালাস না দিয়ে অযথা হয়রানি, ডেলটা জোনের পিয়ন আলমগীর উর্ধ্বতন অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে হয়রানি করা, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে পেপার ভেরিফাইয়ের সময় রোটেশন লাইন নম্বর ও আমদানিকারকের নাম ঠিক থাকলেও অহেতুক বিন নম্বর দিয়ে হয়রানিসহ ২০০০-৩০০০ টাকা ঘুষ দাবি।

বন্দরের ৪ নম্বর গেইট শিপিং ডিটিএম শাখার জসিম উদ্দিন নামে এক কর্মকর্তা একই পদে ১০-১২ বছর। টাকা ছাড়া কোন কাজে হাত দেন না তিনি, পরীক্ষা করা মালামাল ডেলিভারি নিতে এএসআইকে ১০০ টাকা চাঁদা বিপরীতে বর্তমানে ঘুষ দাবি করেন ১০ হাজার টাকা এবং শহিদুল কবির নামের আরেক এএসআই কোন কাজ ৯০ হাজারের কমে করেন না, ঢাকাগামী কনটেইনারের কৃত্রিম জট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ আমদানিকারকদের, চাক্তাই খালসহ বেশ কয়েক জায়গায় বন্দর থেকে ইজারা দিয়ে কোটি টাকা বাণিজ্য করাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতা অপব্যবহার করার অভিযোগ উপস্থাপন করেন ভুক্তভোগীরা।

শুনানিতে আনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ভুক্তভোগীদের এসব অভিযোগগুলোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও দ্রুত সময়ে সমাধান করতে বন্দর চেয়ারম্যানকে বলেন দুদক কমিশনার আমিনুল ইসলাম।

গণশুনানির আগে দুর্নীতি দমন কমিশন জেলা সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক হুমায়ুন কবীরের সঞ্চালনায় আলোচনায় সভায় বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল আলম নিজামী ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।

এতে উপস্থিত ছিলেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মাহমুদ হাসান, উপ-পরিচালক লুৎফুল কবির চন্দন।

মুআ/এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন