চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা ৩০ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক তড়িঘড়ি বেচে দিল কাস্টমস

সীতাকুণ্ডের ডিপোতে বিস্ফোরণের জের

0

সীতাকুণ্ডের ডিপোতে বিস্ফোরণের পর চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা ৩০ টন হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড তড়িঘড়ি নিলামে তুললো চট্টগ্রাম কাস্টমস। নিলামে তোলার পরপরই চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠান বিপজ্জনক ওই রাসায়নিক কিনে নেয়।

শনিবার (৪ জুন) রাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রাসায়নিক থাকা কয়েকটি কনটেইনারে প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে এখন পর্যন্ত ৪৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।

এদিকে এই ঘটনার পর সোমবার (৬ জুন) বিকাল তিনটায় চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে থাকা দুটি কনটেইনার ৩০ টন হাইড্রোজেন পার অক্সাইড তড়িঘড়ি নিলামে তোলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

প্রকাশ্য এই নিলামে চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এয়াকুব ট্রেডিং সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে কিনে নেয় ৩০ টন হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড। দুই কনটেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি হয় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকায়। তবে এর মধ্যে আরও ১৭ শতাংশ ভ্যাট ও কর জমা দিতে হবে বিডারকে।

জানা গেছে, এই হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এই রাসায়নিকের গায়ে মেয়াদও লেখা নেই। কবে উৎপাদন হয়েছে তারও উল্লেখ নেই।

Yakub Group

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার আলী রেজা হায়দার চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিপজ্জনক পণ্য হিসেবে বিবেচনায় দ্রুত নিলাম দেওয়া হয়েছে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড। আগামীকালের মধ্যে দুই কনটেইনার রাসায়নিক ডেলিভারি দেওয়া হবে বন্দর থেকে।’

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জন বিডার প্রকাশ্য এই নিলামে অংশ নিয়েছে।

নিলাম পাওয়া এয়াকুব ট্রেডিংয়ের মালিক এয়াকুব চৌধুরী বলেন, ‘হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড লটের পণ্যটি আমি বিক্রি করে দেবো যত দ্রুত পারি। হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করা যাবে। এটি নিয়মানুসারে ব্যবহার করলে মোটেও বিপজ্জনক নয়।’

হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড আসলে কী?
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড হলো উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ— যা উচ্চ তাপে বিস্ফোরণ ঘটায়। মূলত বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এই পদার্থ। এছাড়াও রকেটের জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে এই উচ্চ শ্রেণির বিস্ফোরক। দেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোতেও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড বেশি ব্যবহৃত হয়, এছাড়াও ফার্মাসিটিক্যাল ও রং তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এই রাসায়নিক।

তবে বিজারকের উপস্থিতিতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মারাত্মকভাবে ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায় বলে জানান চট্টগ্রাম কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. অজয় দত্ত।

তিনি বলেন, যেহেতু এই রাসায়নিক উচ্চমাত্রার দাহ্য ও বিস্ফোরকজাতীয় পদার্থ, তাই এটিকে খুব সাবধানতার সাথে সংরক্ষণ করতে হয়। অন্যথায় উচ্চ তাপ বা অন্য কোন মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে এটি বিস্ফোরণ ঘটাবে। হয়ত বিএম কনটেইনার ডিপোর যেখানে এটিকে রাখা হয়েছে সেখানে উপযুক্ত জায়গায় এটিকে রাখা হয়নি।

এএস/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm