চট্টগ্রাম নগর ভবনে বিক্ষোভ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, চাকরি স্থায়ী করার দাবি

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সমাবেশে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানান বক্তারা। সেইসঙ্গে আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) টাইগারপাসের চসিকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চসিকের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। চাকরি স্থায়ী না করলে আগামীতে আরো বড় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

সমাবেশে চসিকের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক আবু তাহের বলেন, দীর্ঘ ২০-২৫ বছরের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণের দাবি স্থায়ীকরণ। ১৯৮৮ সালের নিয়োগ বিধিমালা মতে, মন্ত্রণালয় থেকে শূন্যপদ পূরণের যে ছাড়পত্র দেওয়া আছে ৭০৯ পদ এবং পরবর্তীতে সাংগঠনিক কাঠামোতে ৪৪৯ পদ সংরক্ষণে সরকার মঞ্জুরি জ্ঞাপন করে। মোট ১১৫৮টি পদ পূরণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে চারবার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বশেষ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে আমাদের স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া শুরু না হলে আমরা আইনি জটিলতায় পরে যাব।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় কর্তৃক বেঁধে দেওয়া সময়সীমার দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু স্থায়ীকরণের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সংকট মুহূর্তে আছি। আমরা আজকে এক দাবিতে জমায়েত দিয়ে আগামীর কর্মসূচিতে চলে যাচ্ছি। আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চসিক অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের সংবাদ সম্মেলন করা হবে।

সংগঠনটির সদস্যসচিব সাজু মহাজন বলেন, আমরা নিজেদের নায্য দাবি আদায়ে আজ আন্দোলনে নেমেছি। অথচ এ সময়ে আমার অফিসে বসে জনগণকে সেবা দেয়ার কথা। স্থায়ীকরণ আমার অধিকার। কর্তৃপক্ষ আমার অধিকার যথাসময়ে দেয়নি বলে আজ আমি রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ সঙ্গী। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অস্থায়ীদের স্থায়ী করার যে সময়সীমা তা পূরণ করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্থায়ীকরণ আমাদের আইনগত অধিকার। দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে আমরা অস্থায়ীভাবে চাকরি করে আসছি। অস্থায়ী হওয়ায় আমরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে আমাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বিভিন্ন সময় স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করলেও অদৃশ্য কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মন্ত্রণালয়ের বিধিনিষেধ ও নিয়োগবিধির অজুহাতে আমরা আর স্থায়ী হতে পারি না।

তিনি বলেন, এর আগে স্থায়ীকরণের দাবিতে গত বছরের ডিসেম্বরের ৮ তারিখ আমরা মানববন্ধন করি। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কথায় পূর্বঘোষিত প্রেস ক্লাবের সামনের মানববন্ধন কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করি। কিন্তু ২ মাস অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না দেখায় আবার আমরা আন্দোলনে ফিরে এসেছি। চাকরি স্থায়ীকরণের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচি চলমান থাকবে।

চসিক অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক আবু তাহেরের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম সচিব জাহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার সঞ্চলনায় সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন ডা. হাসান মুরাদ চৌধুরী, ডা. সুমন তালুকদার, শফিউল আযম, যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন বড়ুয়া, খাইরুল বশর তসলিম, রবিউল হোসেন, বোরহানুল আলম, ইরফানুল হক, রাজু তালুকদার, অর্পণ চাকমা ও অলকা বিশ্বাস।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলাম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা তাদের নিয়োগ দিয়েছি অস্থায়ী ভিত্তিতে। চাকরি কাঠামোর বাইরেতো কাউকে স্থায়ী করা যাবে না। তবুও তাদের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।’

আরএম/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!