চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দিদের খাবার নিয়ে এমন হরিলুট!

মাসে ৬০ লাখ টাকার বাণিজ্য

0

বন্দিদের জন্য সরকারঘোষিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের খাদ্য দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বন্দিরা। বন্দিদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ খাবারের অর্ধেকেরও বেশি আত্মসাৎ করে মাসে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। দৈনিক ৮৫ বস্তা চাল বরাদ্দ থাকলেও বন্দিরা পাচ্ছে ৫৫-৬০ বস্তা চালের ভাত। বাকি ফলে পর্যাপ্ত খাবারও পাচ্ছে না কারাগারে বন্দিরা।

জানা যায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত মিলিয়ে বন্দির সংখ্যা ৮ হাজার ৫০০ জন। তাদের জন্য সরকার দৈনিক ৮৫ বস্তা চাল, ২৫ বস্তা ডাল, ৩ হাজার ৬০ কেজি সবজি, ৩৬৬ থেকে ৪১০ কেজি মাছ-মাংস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম কারা প্রশাসন এই নিয়মনীতি না মেনে নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য সরকারের তালিকা সংকুচিত করে খাদ্য সরবরাহ করছে বন্দিদের। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বন্দিদের দেওয়া হচ্ছে দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ বস্তা চাল, ১১ থেকে ১২ বস্তা ডাল, ১৫০০ থেকে ১৬০০ কেজি সবজি এবং ২০০ থেকে ২২০ কেজির মাছ-মাংস। যেদিন গরুর মাংস ও খাসির মাংস দেওয়ার কথা কাগজে কলমে আছে, ওইদিন তার বদলে ফার্মের মুরগি এনে খাওয়ানো হচ্ছে। এছাড়াও এসব খাবার এতোই নিম্নমানের যে বন্দিরা খেতেও পারেন না।

আদালতে হাজিরা দিতে আসা বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারিভাবে সপ্তাহে ৩ দিন ভাজি-রুটি, ২ দিন হালুয়া রুটি এবং বাকি ২ দিন খিচুড়ি দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এসব খাবার বন্দিরা পায় না। হালুয়া-রুটির বদলে দেওয়া হচ্ছে একদিন, ২ দিন খিচুড়ি দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে একদিন। সপ্তাহে ৩ দিন ভাজি রুটি দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কোন বন্দি ভাজি চোখে দেখে না। যা দেওয়া হয় তাতে ভাজির অস্তিত্ব পর্যন্ত থাকে না।

এদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের জন্য থাকা একটিমাত্র ক্যান্টিন রয়েছে। সেখানে বন্দিদের জন্য চা ও হরলিক্স বিক্রি করা হয়। ছোট একটি কাপে একটি চা দেওয়া হয় যার মূল্য ১০ টাকা, আর একটি মিনি হরলিক্স দাম রাখা হয় ১০ টাকা করে। এ কারণে বন্দিরা চায়ের বদলে মিনি হরলিক্সই বেশি খেয়ে থাকেন। তবে ক্যান্টিনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা চায়ের লাভ হরলিক্সে না পাওয়ায় তারা হরলিক্স বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত চট্টগ্রাম কারাগারের প্রাক্তন জেলার সোহেল রানা ও ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিকের গ্রেপ্তার হলেও এখনো দাপটে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম কারাগারে থাকা তাদের সহযোগীরা। বন্দিদের জন্য বরাদ্দকৃত নাস্তা ও খাওয়া বাবদে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মাসে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে ঠিকাদারের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে। আর তাদের এসব অনৈতিক কাজের সহযোগী হয়ে কাজ করে অন্তত ১১ জন। তার মধ্যে কেইস টেবিল রাইটার থেকে হাসপাতাল চিফ রাইটারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েদি পারভেজ, বড় চৌকার মেট খোকন, ভবন চৌকার মেট সেলিম, ভিজা ক্যান্টিনের সেট দেলোয়ার, কেইচ টেবিলে সাগর, সিআইডি কয়েদি নজরুল, নাছির, ইয়াছিন ও শহীদ, অফিসের কয়েদি শাখার সেট নোমান, গুদাম ইনচার্জ (কয়েদি) রাঙ্গু উল্লেখযোগ্য। এরা সোহেল রানা জেলার থাকাকালীন থেকে এখন পর্যন্ত এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে কারা প্রশাসনের সহযোগিতায়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা। কারাগারে আগের যে কোন সময়ের চাইতে এখন উন্নত খাবার বন্দিদের দেওয়া হচ্ছে। তাদের কোনভাবেই কম খাবার দেওয়া হচ্ছে না। কারাবিধি মোতাবেক দিচ্ছি। এসব অভিযোগ যারা করছে, তারা কারাগারে এসে অবৈধ সুবিধা পাচ্ছে না বলে করছে। কারণ আগে এখানে মাদক প্রবেশ করানো যেত। এখন আমরা নিজেরাই চেক করছি। যার কারণে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক মামলায় কারাগারের থাকা আসামিরা এসব অভিযোগ করছে।’
বন্দিদের জন্য সরকারঘোষিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের খাদ্য দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বন্দিরা। বান্দিদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ খাবারের অর্ধেকেরও বেশি আত্মসাৎ করে মাসে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। দৈনিক ৮৫ বস্তা চাল বরাদ্দ থাকলেও বন্দিরা পাচ্ছে ৫৫-৬০ বস্তা চালের ভাত। বাকি ফলে পর্যাপ্ত খাবারও পাচ্ছে না কারাগারে বন্দিরা।

জানা যায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত মিলিয়ে বন্দির সংখ্যা ৮ হাজার ৫০০ জন। তাদের জন্য সরকার দৈনিক ৮৫ বস্তা চাল, ২৫ বস্তা ডাল, ৩ হাজার ৬০ কেজি সবজি, ৩৬৬ থেকে ৪১০ কেজি মাছ-মাংস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম কারা প্রশাসন এই নিয়মনীতি না মেনে নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য সরকারের তালিকা সংকুচিত করে খাদ্য সরবরাহ করছে বন্দিদের। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বন্দিদের দেওয়া হচ্ছে দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ বস্তা চাল, ১১ থেকে ১২ বস্তা ডাল, ১৫০০ থেকে ১৬০০ কেজি সবজি এবং ২০০ থেকে ২২০ কেজির মাছ-মাংস। যেদিন গরুর মাংস ও খাসির মাংস দেওয়ার কথা কাগজে কলমে আছে, ওইদিন তার বদলে ফার্মের মুরগি এনে খাওয়ানো হচ্ছে। এছাড়াও এসব খাবার এতোই নিম্নমানের যে বন্দিরা খেতেও পারেন না।

আদালতে হাজিরা দিতে আসা বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারিভাবে সপ্তাহে ৩ দিন ভাজি-রুটি, ২ দিন হালুয়া রুটি এবং বাকি ২ দিন খিচুড়ি দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এসব খাবার বন্দিরা পায় না। হালুয়া-রুটির বদলে দেওয়া হচ্ছে একদিন, ২ দিন খিচুড়ি দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে একদিন। সপ্তাহে ৩ দিন ভাজি রুটি দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কোন বন্দি ভাজি চোখে দেখে না। যা দেওয়া হয় তাতে ভাজির অস্তিত্ব পর্যন্ত থাকে না।

এদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের জন্য থাকা একটিমাত্র ক্যান্টিন রয়েছে। সেখানে বন্দিদের জন্য চা ও হরলিক্স বিক্রি করা হয়। ছোট একটি কাপে একটি চা দেওয়া হয় যার মূল্য ১০ টাকা, আর একটি মিনি হরলিক্স দাম রাখা হয় ১০ টাকা করে। এ কারণে বন্দিরা চায়ের বদলে মিনি হরলিক্সই বেশি খেয়ে থাকেন। তবে ক্যান্টিনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা চায়ের লাভ হরলিক্সে না পাওয়ায় তারা হরলিক্স বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত চট্টগ্রাম কারাগারের প্রাক্তন জেলার সোহেল রানা ও ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিকের গ্রেপ্তার হলেও এখনো দাপটে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম কারাগারে থাকা তাদের সহযোগীরা। বন্দিদের জন্য বরাদ্দকৃত নাস্তা ও খাওয়া বাবদে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মাসে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে ঠিকাদারের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে। আর তাদের এসব অনৈতিক কাজের সহযোগী হয়ে কাজ করে অন্তত ১১ জন। তার মধ্যে কেইস টেবিল রাইটার থেকে হাসপাতাল চিফ রাইটারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েদি পারভেজ, বড় চৌকার মেট খোকন, ভবন চৌকার মেট সেলিম, ভিজা ক্যান্টিনের সেট দেলোয়ার, কেইচ টেবিলে সাগর, সিআইডি কয়েদি নজরুল, নাছির, ইয়াছিন ও শহীদ, অফিসের কয়েদি শাখার সেট নোমান, গুদাম ইনচার্জ (কয়েদি) রাঙ্গু উল্লেখযোগ্য। এরা সোহেল রানা জেলার থাকাকালীন থেকে এখন পর্যন্ত এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে কারা প্রশাসনের সহযোগিতায়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা। কারাগারে আগের যে কোন সময়ের চাইতে এখন উন্নত খাবার বন্দিদের দেওয়া হচ্ছে। তাদের কোনভাবেই কম খাবার দেওয়া হচ্ছে না। কারাবিধি মোতাবেক দিচ্ছি। এসব অভিযোগ যারা করছে, তারা কারাগারে এসে অবৈধ সুবিধা পাচ্ছে না বলে করছে। কারণ আগে এখানে মাদক প্রবেশ করানো যেত। এখন আমরা নিজেরাই চেক করছি। যার কারণে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক মামলায় কারাগারের থাকা আসামিরা এসব অভিযোগ করছে।’

এইচটি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন